NOTICE:- ------------------ ----------------- ---------------------------

159. বনী ইসরাঈলে কিফ্ল নামে এক ধনাঢ্য ব্যক্তি

হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে ওমর রা. থেকে বর্ণিত তিনি বলেন, এক দুইবার বা পাঁচ-সাতবার নয়; বরং এর চেয়েও বেশিবার আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি যে, বনী ইসরাঈলে কিফ্ল নামে এক ধনাঢ্য ব্যক্তি ছিল। সে কোনোরূপ গুনাহের কাজ ছাড়ত না। একবার এক মহিলা (অভাবে পড়ে) তার কাছে এল, সে ব্যভিচারের শর্তে তাকে ষাট দিনার (স্বর্ণমুদ্রা) দিতে রাজী হল। (নিরুপায় হয়ে মহিলাটিও রাজী হয়ে গেল) কিফ্ল যখন (নির্জনে) ঐ মহিলার সাথে তার শর্ত পূরণে উদ্যত হল তখন মহিলাটি (আল্লাহর ভয়ে) প্রকম্পিত হয়ে কেঁদে ফেলল। লোকটি বলল, কাঁদছ কেন? তোমাকে কি আমি জবরদস্তি করছি? মহিলা বলল, না, তবে এ গুনাহের কাজ আমি কখনো করিনি। আজ শুধু অভাবের তাড়নায় এতে বাধ্য হয়েছি। লোকটি বলল, অভাবের তাড়নায় পড়ে এসেছ, অথচ কখনও তা করনি? যাও, তোমাকে ছেড়ে দিলাম। দিনারগুলোও তোমারই। সে আরো বলল, আল্লাহর কসম, ভবিষ্যতে আমিও কখনও আল্লাহর নাফরমানী করব না। সে রাতেই কিফ্ল মারা গেল। সকালে দেখা গেল তার ঘরের দরজায় লেখা-

أن الله قد غفر للكفل

আল্লাহ তাআলা কিফ্লকে ক্ষমা করে দিয়েছেন। -সুনানে তিরমিযী ২/৭৬

সুবহানাল্লাহ! মহিলার কী অপূর্ব খোদাভীতি! বস্ত্তত আল্লাহ-ভীতিতে যাদের হৃদয় পরিপূর্ণ থাকে এবং গোনাহ পরিহার করার ব্যাপারে যাদের বিবেক সদা জাগ্রত থাকে, তাদের হালত এমনি হয়ে থাকে। একারণেই হাদীস শরীফে বলা হয়েছে, তাকওয়া হল অন্তরের বিষয়। অন্তরে খোদাভীতি থাকলে কর্মে তার প্রভাব পরিলক্ষিত হবেই।

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিজ উম্মতকে এ প্রসঙ্গে একটি দু’আ শিখিয়েছেন-

اللهم اجعل سريرتي خيرا من علانيتي واجعل علانيتي صالحة.

হে আল্লাহ! আমার ভিতরকে আমার বাইরের চেয়েও সুন্দর করে দাও, আর আমার বাহিরকেও ভাল করে দাও।

এ ঘটনা থেকে আরেকটি শিক্ষণীয় বিষয় হল গোপনে ও নির্জনে আল্লাহকে বেশি ভয় করতে হয়। কারণ এ সময়ে কৃত কোনো অপরাধ সাধারণত মানুষ জানার ভয় থাকে না বিধায় মানুষ নিঃসঙ্কোচে গোনাহে লিপ্ত হয়ে পড়ে, যদি আল্লাহর ভয় অন্তরে না থাকে। বস্ত্তত সর্বোচ্চ গোপনীয়তার মাঝেও যাদের হৃদয় আল্লাহর ভয়ে প্রকম্পিত থাকে তারাই খাঁটি মুত্তাকী।

158. আল্লাহ ও তাঁর রসূলের আহব্বানের সাথে সাথে হাজির হতে হবে

$$ আল্লাহ ও তাঁর রসূলের আহব্বানের সাথে সাথে হাজির হতে হবে $$

মহান আল্লাহ সুবাহানাহু তায়ালা এরশাদ করেন,

“হে ইমানদারগণ ! আল্লাহ ও তাঁর রস্লের আহ্বানে হাজির হও! যখন রসূল তোমাদের সেই বস্তুর জন্য আহ্বান করেন, যা তোমাদের জীবন দান করবে এবং জেনে রেখা যে আল্লাহর নির্দেশ মানুষ ও তার মনের ইচ্ছাসমুহের মধ্যে অন্তরায় হয়ে যায় এবং একথাও যে, তোমাদেরকে তাঁর প্রতি উঠতে হবে ।”

[সূরা আনফাল, আয়াত- ২৪, পারা-৯, অনুবাদ কানযুল ইমান ৩৩০ পৃষ্ঠা]

157. রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বর্ণ ছিল উজ্জ্বল

হযরত আনাস (রাঃ) বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বর্ণ ছিল উজ্জ্বল, তাঁর ঘাম ছিল মুক্তার ন্যায়। তিনি সামনের দিকে ঝুকে হাঁটতেন। তাঁর হাতের চেয়ে অধিক কোমল কোন রেশম আমি স্পর্শ করিনি। তাঁর সুঘ্রাণের চেয়ে অধিক সুগন্ধি কোন মেশক-আম্বরেও আমি পাইনি।

{সহীহ মুসলিম-২৩৩০,মুসনাদ আহমাদ-১৩৪৩৯}

হে আল্লাহ্‌! ! যারা তোমার প্রিয় হাবীবকে নিয়ে কুটক্তি করে, ব্যঙ্গ করে এবং তাদের যারা সমর্থন করে, তাদেরকে তুমি হেদায়েত দান কর। যদি হেদায়েত না থাকে তাহলে এমন শাস্তি দাও যাতে তারা কখনো এমন কাজ করার সাহস না পায়। আমীন, ইয়া রাব্বাল আলামীন।

## আপনার প্রিয়জনদের কাছে পৌঁছে দিন ইসলামের শাশ্বত বাণী। হৃদয় থেকে হৃদয় উদ্ভাসিত হোক ঈমানের আলোকচ্ছটায়।

156. আল্লাহ প্রদত্ত রাসুল (ﷺ) এর ৫টি গুণ

♣♣আল্লাহ প্রদত্ত রাসুল (ﷺ) এর ৫টি গুণ♣♣

হযরত জাবের বিন আব্দুল্লাহ্ রাদিয়াল্লাহু ‘আনহুমা থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী 
সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: “আমাকে এমন পাঁচটি বিষয় দেয়া হয়েছে, 
যা আমার পূর্বে আর কাউকে দেয়া হয়নি-

♣→আমাকে এক মাসের দূরত্বের রাস্তায় ভীতি দ্বারা সাহায্য করা হয়েছে।

♣→ আমার জন্য পৃথিবীকে মসজিদ ও পবিত্র করা হয়েছে, তাই আমার উম্মাতের কোন 
লোকের যেখানেই সালাতের সময় হবে সেখানেই সালাত আদায় করে নিবে।

♣→ আমার জন্য গণীমতের মাল হালাল করা হয়েছে যা ইতিপূর্বে কারো জন্যই হালাল ছিল না।

♣→আমাকে শাফায়াতের অধিকার দেয়া হয়েছে।

♣→প্রত্যেক নবী প্রেরিত হতেন কেবলমাত্র তার সম্প্রদায়ের জন্য, কিন্তু আমি প্রেরিত হয়েছি সমগ্র মানব জাতির জন্য।”

[বুখারী: ৩৩৫]♣♣আল্লাহ প্রদত্ত রাসুল (ﷺ) এর ৫টি গুণ♣♣
হযরত জাবের বিন আব্দুল্লাহ্ রাদিয়াল্লাহু ‘আনহুমা থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী
সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: “আমাকে এমন পাঁচটি বিষয় দেয়া হয়েছে,
যা আমার পূর্বে আর কাউকে দেয়া হয়নি-
♣→আমাকে এক মাসের দূরত্বের রাস্তায় ভীতি দ্বারা সাহায্য করা হয়েছে।
♣→ আমার জন্য পৃথিবীকে মসজিদ ও পবিত্র করা হয়েছে, তাই আমার উম্মাতের কোন
লোকের যেখানেই সালাতের সময় হবে সেখানেই সালাত আদায় করে নিবে।
♣→ আমার জন্য গণীমতের মাল হালাল করা হয়েছে যা ইতিপূর্বে কারো জন্যই হালাল ছিল না।
♣→আমাকে শাফায়াতের অধিকার দেয়া হয়েছে।
♣→প্রত্যেক নবী প্রেরিত হতেন কেবলমাত্র তার সম্প্রদায়ের জন্য, কিন্তু আমি প্রেরিত হয়েছি সমগ্র মানব জাতির জন্য।”

[বুখারী: ৩৩৫]

155.হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি হচ্ছেন সকল নিয়ামতের বন্টনকারী |

মহান আল্লাহ পাক স্বীয় মাখলুকাতকে দুনিয়া ও আখিরাতে যত নিয়ামত দান করেছেন,করছেন ও করবেন তা সমস্তই সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন , হজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার উসীলায় বা মাধ্যমে। অর্থাৎ হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি হচ্ছেন সকল নিয়ামতের বন্টনকারী |

এ প্রসঙ্গে হাদীস শরীফে এরশাদ মুবারক হয়েছে --

عن معاوية رضي الله عنه قال قال رسول الله صلي عليه و سلم من يرد الله به خيرا يفقهه في الدين وانما انا قاسم والله يعطي

অর্থ : হযরত মুয়াবিয়া রদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্নিত, তিনি বলেন, হাবীবুল্লাহ, হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি এরশাদ মুবারক করেন - আল্লাহ পাক যার ভালাই ( কল্যাণ) চান তাকেই দ্বীনের সহীহ বুঝ দান করেন। আর অবশ্যই আমি ( সমস্ত নিয়ামতের ) বন্টন কারী, আর মহান আল্লাহ পাক দান করেন !"

দলীল--
√ বুখারী শরীফ

√মুসলিম শরীফ

√ মিশকাত শরীফ-কিতাবুল ইলম-১ম পরিচ্ছেদ -১৮৯ হাদীস

√ কানযুল উম্মাল

শুধু তাই নয়, আল্লাহ পাক উনার প্রিয়তম হাবীব হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে জান্নাতের মালিক বানিয়েছেন। তিনি যাকে ইচ্ছা তাকে নিয়ামত স্বরুপ জান্নাতে প্রবেশ করাতে পারেন।

এ প্রসঙ্গে হাদীস শরীফে এরশাদ হয়--

عن ابن مسعود رضي الله عنه ان النبي صلي الله عليه و سلم قال فاذا عملتم ذالك فلكم علي الله الجنة وعلي

অর্থ : হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে মাসুদ রদ্বিয়াল্লাহু আনহু বলেন, হাবীবুল্লাহ, হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ছাহাবয়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু আনহুগন উনাদেরকে বলেছেন - যখন তোমরা আমার কথা অনুযায়ী আমল করবে তখনই এর বিনিময়ে আল্লাহ পাক এবং আমি ( আল্লাহ পাক উনার হাবীব ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তোমাদের জান্নাত দান করবো !"

দলীল--
√ ত্বাবরানী শরীফ

√ কানযুল উম্মাল ১৬৩

√ মাযমাউয যাওয়ায়িদ ৬/৪৭

√ ইবনে আবী শায়বা

√ ইবনে আসাকীর

√ মাফাহীম ২০৪

উক্ত হাদীস শরীফ থেকে প্রমানিত হলো সকল নিয়ামতের মালিক হচ্ছেন হাবীবুল্লাহ, সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি। তিনি কায়িনাতের সব কিছু বন্টন করেন।