NOTICE:- ------------------ ----------------- ---------------------------
Showing posts with label নামাজ. Show all posts
Showing posts with label নামাজ. Show all posts

"জুম'আর নামাজের ফজিলত ও এ দিনের মর্তবা"

আল্লাহর গোলাম আমি's photo.
-
৭ দিনে এক সপ্তাহ। এ সাত দিনের মধ্যে সর্বাপেক্ষা শ্রেষ্ঠ ও ফজিলতপূর্ণ দিন হল শুক্রবার। দয়াময় রবের নিকট হতে মানুষের জন্য সবচেয়ে বেশি নেয়ামত দান করা হয়েছে এ দিনেই। আদি মানব হযরত আদম (আ) কে আল্লাহ তা'য়ালা এ দিনেই সৃষ্টি করেছেন। সৃষ্টির অনেক গুরুত্বপূর্ণ মাহাত্মের কারণে শুক্রবার অতীব ফজিলতপূর্ণ ছিল।
মানুষের জন্য আল্লাহর পক্ষ থেকে দেয়া ইবাদতের মধ্যে নামাজ আল্লাহর নিকট অধিক প্রিয়। কুরআন ও হাদীসে অন্য কোন ইবাদতের জন্য এতো তাকীদ আসেনি, নামাজের জন্য যত তাকীদ এসেছে।
জামায়াতে নামাজ আদায় ইহ-পারলৌকিক নেয়ামত হাসিল হয়।
জামায়াতে অধিক লোকের সমাগমের কারণে সওয়ার অনেক বেশি হয়। আল্লাহ রাব্বুল আ'লামীন ইচ্ছাপোষন করলেন তার প্রিয় বান্দারা সপ্তাহে অন্ততঃ একবার বহুসংখ্যক লোক একত্রিত হয়ে বিনিষ্ট হৃদয়ে ইবাদত করুক। তাই তিনি তার প্রিয় বন্ধু রাসূল (সা:) এর উম্মতগনকে নেয়ামত দান করলেন। সত্যিই উম্মতে মুহাম্মদী সৌভাগ্যবান। মহান আল্লাহর মনঃপুত সর্বশ্রেষ্ঠ দিন আমাদেরকে দিলেন। সর্বশ্রেষ্ঠ দিন শুক্রবার. আর সর্বশ্রেষ্ঠ ইবাদত জুম'আর নামাজ উম্মতে মুহাম্মদীর জন্য নির্ধারণ করলেন।
রাসূল (সা:) এর হাদীস থেকে জানা যায়, সপ্তাহের দিন গুলোর মধ্যে জুম'আর দিন সর্বশ্রেষ্ঠ দিন। এ দিন হযরত আদম (আ) কে সৃজন করা হয় এবং এদিনই তাকে বেহেশতে স্থান দেয়া হয়, আবার এদিনেই তাকে বেহেশত থেকে বের করে দুনিয়ায় পাঠানো হয় এবং এদিনেই কেয়ামত সংঘটিত হবে। এদিন অধিক ফজিলতের দিন। এ দিনে তোমরা অধিক পরিমাণে দুরূদ পাঠ কর্। তোমরা যখন দুরূদ পড়বে তৎক্ষণাৎ তা আমার সামনে পেশ করা হবে। আমি তৎক্ষণাৎ এর প্রতিউত্তর ও দোয়া দিব।

* সালাতুল তাসবিহ নামাজের নিয়ম * সবাই শেয়ার করুন *


রাসূলুল্লাহ সালল্লাহু তা’আলা আলাইহি ওয়া সাল্লাম স্বীয় চাচা হযরত আব্বাস রাদিআল্লাহু আনহুকে এই নামায শিক্ষা দিয়েছিলেন এবং বলেছিলেন যে, এই নামায পড়লে আল্লাহ তায়ালা পূর্বের ও পরের গুনাহ সমূহ মাফ করে দিবেন।
তিনি বলেন, চাচা ! আপনি যদি পারেন, তবে দৈনিক একবার করে এই নামায পড়বেন। যদি দৈনিক না পারেন, তবে সপ্তাহে একবার পড়বেন। যদি সপ্তাহে না পারেন, তবে মাসে একবার পড়বেন। যদি মাসে না পারেন, তবে বছরে একবার পড়বেন। যদি এটাও না পারেন, তবে সারা জীবনে একবার হলেও এই নামায পড়বেন । ( বুখারী শরীফ- ৩৪২৩ - ইবনে মাজা শরীফ - ১৭৩ )

* সালাতুল তাসবিহ নামাজের নিয়ম *
সালাতুল তাসবিহ নামাজ চার রকাত ।
প্রতি রকাতে সূরা ফাতিহার পর, যে কোন সূরা পড়তে পারেন। তবে এই নামাযে বিশেষত্ব এই যে, প্রতি রকাতে ৭৫ বার করে, চার রকাতে মোট ৩০০ বার তাসবীহ পড়তে হয়।
‪#‎তাসবীহটি‬ হল:- ( সুবহানাল্লাহি ওয়াল হামদু লিল্লাহি ওয়া লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়াল্লাহু আকবার।)
* নিয়ম:-

সহীহ হাদীস শরীফ থেকে প্রমাণিত তারাবীহর নামাজ বিশ রাকায়াত, আট রাকায়াত বলা স্পষ্ট গোমরাহী।

11113941_1409879535999518_3936595826054178321_nবিশ রাকায়াত তারাবীহ নামায সহীহ হাদীছ শরীফ দ্বারা প্রমাণিত
তারাবীহ নামায কত রাকায়াত পড়তে হবে? মূলতঃ তারাবীহ নামায বিশ রাকায়াতই পড়তে হবে। কারণ, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি এবং হযরত খুলাফায়ে রাশিদীন আলাহিমুস সালাম উনারাসহ সকল ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনারা ও চার মাযহাবের ইমাম রহমতুল্লাহি আলাইহিম উনারাসহ সকল ইমাম-মুজতাহিদ রহমতুল্লাহি আলাইহিম উনারা ২০ রাকায়াত তারাবীহ আদায় করেছেন।
হাদীছ শরীফ এ ইরশাদ হয়েছে, “হযরত ইবনে আব্বাস রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি বর্ণনা করেন, “নিশ্চয়ই মহান আল্লাহ পাক উনার হাবীব হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি বিশ রাকায়াত তারাবীহ নামায পড়তেন বিতর নামায ব্যতীত। অর্থাৎ তারাবীহ বিশ রাকায়াত এবং বিতর তিন রাকায়াত মোট তেইশ রাকায়াত।” (মুছান্নাফ ইবনে আবী শায়বা)
হাদীছ শরীফ এ ইরশাদ হয়েছে, “হযরত ওমর ইবনুল খত্তাব আলাইহিস সালাম, হযরত আলী কাররামাল্লাহু ওয়াজহাহু আলাইহিস সালাম এবং অন্যান্য সাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনাদের থেকে বর্ণিত, তারাবীহ নামায বিশ রাকায়াত।” (তিরমিযী শরীফ)
ইমাম বায়হাক্বী রহমতুল্লাহি আলাইহি সহীহ সনদে বর্ণনা করেছেন যে, হযরত উমর ইবনুল খত্তাব আলাইহিস সালাম, হযরত উছমান যূন নুরাইন আলাইহি সালাম, হযরত আলী কাররামাল্লাহু ওয়াজহাহু আলাইহিস সালাম উনারা সকলেই বিশ রাকায়াত তারাবীহ নামায আদায় করেছেন।
হযরত ইয়াযীদ ইবনে রূমান রহমতুল্লাহি আলাইহি বর্ণনা করেন, “হযরত উমর ইবনুল খত্তাব আলাইহি সালাম উনার খিলাফতকালে হযরত সাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনারাতারাবীহ নামায ও বিতর নামাযসহ ২৩ রাকায়াত পড়তেন।” (মুয়াত্তায়ে ইমাম মালিক)
হযরত আব্দুর রহমান সু’লামী রহমতুল্লাহি আলাইহি বর্ণনা করেন, “হযরত আলী কাররামাল্লাহু ওয়াজহাহু আলাইহিস সালাম কুরআন শরীফ এর জ্ঞান সম্পন্ন ব্যক্তিদেরকে ডেকে একত্রিত করে একজনকে ইমামতি করার নির্দেশ দিয়ে বললেন, তারাবীহ নামায বিশ রাকায়াত পড়াবেন।” (বায়হাক্বী শরীফ)
হযরত আবুল হাসান রহমতুল্লাহি উনার থেকে বর্নিত আছে, “হযরত আলী কাররামাল্লাহু ওয়াজহাহু আলাইহিস সালাম একজন সাহাবী রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনাকে ইমাম নিযুক্ত করে উনাকে নির্দেশ দিলেন, তারাবীহ নামায বিশ রাকায়াত পড়াবেন।” (মুছান্নাফ-ইবেন আবী শায়বা)
হযরত যায়িদ ইবনে ওহাব রহমতুল্লাহি আলাইহি বর্ণনা করেন, “হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু রমাদ্বান শরীফ মাসে তারাবীহ নামায পড়াতেন। হযরত আ’মাশ রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি বর্ণনা করেন, হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ রদ্বিয়াল্লাহু তিনি বিশ রাকায়াত তারাবীহ নামায পড়াতেন এবং তিন রাকায়াত বিতর পড়াতেন।”
হাদীছ শরীফ এ ইরশাদ হয়েছে, “হযরত ইবনে আব্বাস রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু বর্ণনা করেন, নিশ্চয়ই মহান আল্লাহ পাক উনার হাবীব হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বিশ রাকায়াত তারাবীহ নামায পড়তেন বিতর নামায ব্যতীত। অর্থাৎ তারাবীহ বিশ রাকায়াত এবং বিতর রাকায়াত মোট তেইশ রাকায়াত।” (মুছান্নাফ- ইবনে আবী শায়বা)
হাদীছ শরীফ এ আরো ইরশাদ হয়েছে, “হাফিযুল হাদীছ, ইবনে হাজর আসকালানী রহমতুল্লাহি আলাইহি, ইমাম রাফিয়ী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার থেকে বর্ণনা করেন, নিশ্চয়ই সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি লোকদের সাথে দু’রাত্রি বিশ রাকায়াত তারাবীহ নামায পড়লেন। যখন তৃতীয় রাত্রি আসলো, তখন লোকজন একত্রিত হলো, কিন্তু হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাদের নিকট আসলেন না। অতঃপর বললেন, আমারা আশংকা হচ্ছে যে, এটা আপনাদের উপর ফরয যায় কিনা। আর যদি এটা ফরয হয়ে যায়, তাহলে আপনারা তা আদায় করতে সক্ষম হবেন না।” এই হাদীছ শরীফ খানা সহীহ হওয়ার ক্ষেত্রে সকলেই একমত। (তালখীছুল হাযির ফি তাখরীজে আহাদীছির রাফিয়িল কাবীর, অনুরূপ লামিউদদুরারী শরহে ছহীহিল বুখারী, মিরকাত শরহে মিশকাতে বর্ণিত আছে)হযরত সায়িব ইবনে ইয়াযীদ রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার থেকে বর্ণিত- তিনি বলেন, “আমরা আমীরুল মু’মিনীন হযরত উমর ইবনুল খত্তাব আলাইহিস সালাম উনার খিলাফতকালে বিশ রাকায়াত তারাবীহ নামায পড়েছি ও বিতর নামায পৃথক আদায় করেছি।” (সুনানুল মা’রিফাহ লিল বায়হাক্বী, তা’লীকুল হাসান, ই’লাউস সুনান, তাহাবী শরহে মায়ানিয়িল আছার)
হযরত ইয়াহইয়া ইবনে সায়ীদ রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার থেকে বর্ণিত- নিশ্চয়ই হযরত উমর ইবনুল খত্তাব আলাইহিস সালাম তিনি এক ব্যক্তিকে সকল লোকদের নিয়ে বিশ রাকায়াত তারাবীহ নামায পড়ার আদেশ দিয়েছেন। (মুছান্নিফ ইবনে আবী শা’ইবা, ই’লাউস সুনান, ফিক্বহুস সুনানে ওয়াল আছার, ফাতহুল মুলহিম শরহে মুসলিম)
মুহম্মদ ইবনে কা’ব রহমতুল্লাহি উনার থেকে বর্ণিত- তিনি বলেন, “লোকেরা (হযরত সাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম) আমীরুল মু’মিনীন হযরত উমর ইবনুল খত্তাব আলাইহিস সালাম উনার যামানায় (খিলাফতকালে) রমাদ্বান শরীফ মাসে বিশ রাকায়াত তারাবীহ নামাযপড়েন।” (ক্বিয়ামুল লাইল, পৃষ্ঠা-৯১)
হযরত আবুল হাসানা রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার থেকে বর্ণিত- তিনি বলেন, “নিশ্চয়ই হযরত আলী কাররামাল্লাহু ওয়াজহাহু আলাইহিস সালাম তিনি এক ব্যাক্তিকে সকলকে নিয়ে পাঁচ তারবীহা অর্থাৎ বিশ রাকায়াত তারাবীহ নামায পড়ার নির্দেশ দেন।” (সুনানুল কুবরা লিল বায়হাক্বী, অনুরূপ মুছান্নিফ ইবনে আবী শাইবা, আল জাওহারুন নক্বী, কানযূল উম্মাল, ই’লাউস সুনান, উমদাতুল ক্বারী, আইনী শরহে বুখারীতে বর্ণিত আছে)
হযরত সায়িব ইবনে ইয়াযীদ রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার থেকে বর্ণিত- তিনি বলেন, “লোকেরা হযরত উমর ইবনুল খত্তাব আলাইহিস সালাম উনার খিলাফতকালে বিশ রাকায়াত তারাবীহ নামায পড়তেন। অনুরূপ হযরত উছমান যিন নুরাইন আলাইহিস সালাম ও হযরত আলী কাররামাল্লাহু ওয়াজহাহু আলাইহিস সালাম উনাদের খিলাফতকালে বিশ রাকায়াত তারাবীহ নামাযপড়া হতো।” (আইনী শরহে বুখারী, উমাদাতুল ক্বারী শরহে বুখারী, ফাতহুল মুলহিম শরহে মুসলিম)
হযরত আব্দুল আযীয ইবনে রফী’ রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার থেকে বর্ণিত- তিনি বলেন, “হযরত উবাই ইবনে কা’ব রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু মদীনা শরীফ-এ রমাদ্বান শরীফ মাসে বিশ রাকায়াত তারাবীহ ও তিন রাকায়াত বিতর নামায পড়েন।” (মুছান্নিফ ইবনে আবী শাইবা, অনুরূপ আছারুস সুনান, তা’লীকুল হাসান, ই’লাউস সুনান, ফিক্বহুস সুনানে ওয়াল আছার, ফতহুল মুলহিম শরহে মুসলিম, বজলুল মাজহুদ শরহে আবী দাউদে উল্লেখ আছে)
হযরত আবূ খছীব রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার থেকে বর্ণিত- তিনি বলেন, “হযরত সুয়াইদ ইবনে গাফলাহ রহমতুল্লাহি তিনি রমাদ্বান শরীফ মাসে আমাদেরকে নিয়ে পাঁচ তারবীহা অর্থাৎ বিশ রাকায়াত নামায পড়েন।” (সুনানুল কুবরা লিল বায়হাক্বী, মুছান্নিফ ইবনে আবী শাইবা, আল্‌ জাওহারুন নক্বী, আছারুস সুনান, ই’লাউস সুনান, বজলুল মাজহুদ, শরহে আবূ দাউদ)
হযরত আলী কাররামাল্লাহু ওয়াজহাহু আলাইহিস সালাম উনার এক সাথী হযরত শুতাইর ইবনে শেকাল রহমতুল্লাহি আলাইহি রমাদ্বান শরীফ মাসে তারাবীহ ও তিন রাকায়াত বিতর নামায পড়েন। (সুনানুল কুবরা লিল বাইহাক্বী, মুছান্নিফ ইবনে আবী শাইবা, আল জাওহারুন নক্বী, মিরক্বাত শরহে মিশকাতে উল্লেখ আছে)
হযরত সায়িদ ইবনে উবাইদ রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি বলেন, “নিশ্চয়ই হযরত আলী ইবনে রুবাইয়াহ রমাদ্বান শরীফ মাসে লোকদের নিয়ে বিশ রাকায়াত তারাবীহ ও তিন রাকায়াত বিতর নামায পড়েন।” (মুছান্নিফ ইবনে আবী শাইবা, অনুরূপ আছারুস সুনান, ফিক্বহুস সুনানে ওয়াল আছার, ই’লাউস সুনান, বজলুল মাজহুদ শরহে আবূ দাউদে উল্লেখ আছে)
হযরত আতা ইবনে আবী রিবাহ রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি বলেন, “আমি লোকদের এরূপ অবস্থায় পেয়েছি যে, উনারা বিতরসহ তেইশ রাকায়াত তারাবীহ নামায পড়েন।” (মুছান্নিফ ইবনে আবী শাইবা, অনুরূপ আছারুস সুনান, ক্বিয়ামুল লাইল, লাইলুল আওতার, ফিক্বহুস সুনানে ওয়াল আছার, ফাতহুল বারী শরহে বুখারী)
হযরত ইমাম নাফে’ রহমতুল্লাহি আলাইহি বলেন, “হযরত ইবনে আবী মুলাইকাহ রহমতুল্লাহি আলাইহি, রমাদ্বান শরীফ মাসে আমাদেরকে নিয়ে বিশ রাকায়াত তারাবীহ নামায পড়েন।” (মুছান্নিফ ইবনে আবী শাইবা, অনুরূপ আছারুস সুনান, ফিক্বহুস সুনানে ওয়াল আছারে উল্লেখ আছে)
হযরত আবু ইসহাক্ব রহমতুল্লাহি আলাইহি হযরত হারিস রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার থেকে বর্ণনা করেন, “তিনি রমাদ্বান শরীফ মাসে লোকদের ইমামতি করাতেন ও বিশ রাকায়াত তারাবীহ ও তিন রাকায়াত বিতর নামায পড়াতেন।” (মুছান্নিফ ইবনে আবী শাইবা)
হযরত আবুল বুখতারী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার থেকে বর্ণিত, “তিনি রমাদ্বান শরীফ মাসে পাঁচ তারবীহা অর্থাৎ বিশ রাকায়াত তারাবীহ ও তিন রাকায়াত বিতর নামায পড়তেন।” (মুছান্নিফ ইবনে আবী শাইবা)
হাফিযুল হাদীছ, ইবনে আব্দুল বার রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি বলেন, হারিছ ইবনে আব্দুর রহমান ইবনে আবু জুবার রহমতুল্লাহি আলাইহি, হযরত সায়িব ইবনে ইয়াযীদ রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার থেকে বর্ণিত- তিনি বলেন, “আমীরুল মু’মিনীন, হযরত উমর ইবনুল খত্তাব আলাইহিস সালাম উনার সময় তেইশ রাকায়াত তারাবীহ নামায পড়া হতো। হযরত আব্দুল বার রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি বলেন, উহার তিন রাকায়াত বিতর নামায।” (আইনী শরহে বুখারী)
হযরত সাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনারা, হযরত উবাই ইবনে কা’ব রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার ইমামতিতে যে তারাবীহ নামায আদায় করেন, জমহুর আলিমগণ উনাদের প্রসিদ্ধ মতে, তা দশ সালামে বিশ রাকায়াত। আর উহা মূলতঃ পাঁচ তারবীহাত। প্রত্যেক চার রাকায়াতে এক তারবীহা যা দুই সালামে আদায় করেন বিতর ব্যতীত। আর বিতর হলো তিন রাকায়াত।” (ইরশাদুল সারী শরহে ছহীহিল বুখারী)
আল্লামা ইবনে হাজর মক্কী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি বর্ণনা করেন, সাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনারা সকলেই একমত যে, তারাবীহ নামায বিশ রাকায়াত।তারাবীহ নামায বিশ রাকায়াত এ বিষয়ে কোন সাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু দ্বিমত পোষণ করেন নি। হযরত উবাই ইবনে কা’ব রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি এই কথা বর্ণনা করেছেন- বিশ রাকায়াত তারাবীহ। এটাই সহীহ বর্ণনা।(উমাদুল ক্বারী, শরহে বুখারী)
উপরোক্ত দলীলগুলো দ্বারা স্পষ্ট প্রমাণিত যে, রমাদ্বান শরীফ এ তারাবীহ নামায ২০ রাকায়াত।

“তারাবীহ নামায আট রাকায়াত” এ বাতিল দাবীর দলীল ভিত্তিক খন্ডন :
প্রথমতঃ যারা বলে তারাবীহ নামায আট রাকায়াত পড়া সুন্নত, তারা দলীল হিসাবে বুখারী শরীফ প্রথম জিলদ ১৫৪ পৃষ্ঠার বর্ণিত নিম্নোক্ত হাদীছ শরীফ উল্লেখ করে থাকে। হাদীছ শরীফ-এ উল্লেখ আছে, হযরত আবূ সালমাহ ইবনে আব্দুর রহমান রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু, উম্মুল মু’মিনীন হযরত আয়িশা ছিদ্দীক্বা আলাইহাস সালাম উনাকে জিজ্ঞাস করলেন, মহান আল্লাহ পাক উনার হাবীব হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি রমাদ্বান শরীফ মাসে কত রাকায়াত নামায পড়তেন? তখন উম্মুল মু’মিনীন হযরত আয়িশা ছিদ্দীক্বা আলাইহাস সালাম তিনি বললেন,“সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি রমাদ্বান শরীফ মাসে ও রমাদ্বান শরীফ মাস ব্যতীত অন্য মাসে এগার রাকায়াতের অধিক নামায পড়তেন না। আর তিনি তা চার,চার রাকায়াত করে পড়তেন।”জবাবঃ কয়েকটি কারণে উপরোক্ত হাদীছ শরীফ দ্বারা কখনোই তারাবীহ নামায আট রাকায়াত প্রমাণিত হয়না।প্রথম কারণঃ  উপরোক্ত হাদীছ শরীফ-এ “রমাদ্বান শরীফ মাসে” এর সাথে সাথে “রমাদ্বান শরীফ মাস ব্যতীত অন্য মাসে” একথাও উল্লেখ আছে। অর্থাৎ বলা হয়েছে যে, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি অন্য মাসে যেরূপ এগার রাকায়াত নামায পড়তেন তদ্রূপ রমাদ্বান শরীফ মাসেও এগার রাকায়াত নামায পড়তেন। এখন প্রশ্ন হলো- রমাদ্বান শরীফ মাসে নাহয় তারাবীহ নামায পড়েছেন কিন্তু গায়রে রমাদ্বান শরীফ (রমাদ্বান শরীফ ব্যতীত অন্য মাসে) তারাবীহ নামায পড়বেন কিভাবে? তারাবীহ নামায শুধু মাত্র রমাদ্বান শরীফ মাসে পড়তে হয়। মূলতঃ এ হাদীছ শরীফ-এ তারাবীহ নামাযের কথা বলা হয়নি বরং তাহাজ্জুদ নামাযের কথা বলা হয়েছে। কেননা, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি সারা বৎসরই তাহাজ্জুদ নামায আদায় করতেন। এ প্রসংগে বিখ্যাত মুহাদ্দিস, আল্লামা শায়খ শামসুদ্দীন কিরমানী রহমতুল্লাহি আলাইহি বলেন, “উম্মুল মু’মিনীন হযরত ছিদ্দীক্বা আলাইহাস সালাম উনার উক্ত হাদীছ শরীফ দ্বারা তাহাজ্জুদ নামাযকে বুঝানো হয়েছে। হযরত আবূ সালমা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার প্রশ্ন ও উম্মুল মু’মিনীন হযরত ছিদ্দীক্বা আলাইহাস সালাম উনার জবাব তাহাজ্জুদ নামাযের সাথে সম্পৃক্ত ছিল।” (কাওকাবুদ দুরারী শরহে বুখারী)
উক্ত হাদীছ শরীফ এর ব্যাখ্যায় ইমামুল মুহাদ্দিছীন হযরত শাহ আব্দুল হক মুহাদ্দিছ দেহলভী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি বলেন, “বিশুদ্ধ বা সহীহ মত এটাই যে, মহান আল্লাহ পাক উনার হাবীব হুযুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি বিতরসহ যে এগার রাকায়াত নামায পড়েছেন, তা তাহাজ্জুদ নামায ছিল” (আশয়াতুল লুময়াত)এ প্রসংগে ইমামুল মুহাদ্দিছীন হযরত শাহ আব্দুল হক মুহাদ্দিছ দেহলভী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি বলেন, “উম্মুল মু’মিনীন হযরত আয়িশা ছিদ্দীক্বা আলাইহাস সালাম উনার থেকে বর্ণিত হাদীছ শরীফখানা তাহাজ্জুদ নামাযের সাথে সম্পর্কিত, যা রমাদ্বান শরীফ ও গায়রে রমাদ্বানে একই সমান ছিল।” (মুজমুয়ায়ে ফতওয়ায়ে আযীয)
 আর হুজ্জাতুল ইসলাম, ইমাম গাজ্জালী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার ব্যাখ্যায় বলেন,“সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এক, তিন, পাঁচ, সাত, নয় এবং এগার রাকায়াত বিতর নামায আদায় করতেন। তের রাকায়াতের বর্ণনাটি পরিত্যাজ্য, আর একখানা হাদীছ শরীফ এর মধ্যে সতের রাকায়াতের কথাও উল্লেখ আছে। আর এসকল নামাযের রাকায়াত যার সাথে আমি বিতর শব্দটি ব্যবহার করেছি, তা হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম রাত্রি বেলায় আদায় করতেন। আর এটাই হলো তাহাজ্জুদ নামায।” (ইহইয়াউ উলুমিদ্দীন) 
 উপরোক্ত নির্ভরযোগ্য আলোচনা দ্বারা এটাই প্রমাণিত হলো যে, হযরত আবূ সালমাহ ইবনে আব্দুর রহমান রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার থেকে বর্ণিত বুখারী শরীফ-এর উক্ত হাদীছ শরীফখানা তারাবীহ নামাযের পক্ষে মোটেও দলীল হিসাবে গ্রহণযোগ্য নয় বরং ওটা তাহাজ্জুদ নামাযের দলীল হিসাবেই গ্রহণযোগ্য।
দ্বিতীয় কারণঃ তাছাড়া উক্ত হাদীছ শরীফখানা যে তাহাজ্জুদ নামায সম্পর্কিত তার আরো একটি অকাট্য দলীল হলো এই যে, হাদীছ শরীফ-এর জমহুর ইমামগণ উক্ত হাদীছ শরীফখানা উনাদের স্ব স্ব কিতাবে তাহাজ্জুদের অধ্যায়ে বর্ণনা করেছেন। যেমনঃ ইমাম মুসলিম রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার মুসলিম শরীফ-এর ১ম জিলদ ২৫৪ পৃষ্ঠায়, ইমাম আবূ দাউদ রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার সুনানে আবূ দাউদের ১ম জিলদ ১৯৬ পৃষ্ঠায়, ইমাম তিরমিযী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার তিরমিযী শরীফ-এর ১ম জিলদ ৫৮ পৃষ্ঠায়, ইমাম নাসাঈ রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার নাসাঈ শরীফ-এর ১ম জিলদ ১৫৪ পৃষ্ঠায় এবং ইমাম মালেক রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার মুয়াত্তায়ে ইমাম মালেকের ৪৭ পৃষ্ঠায় উক্ত হাদীছ শরীফকে তাহাজ্জুদের অধ্যায়ে বর্ণনা করেছেন।আর যদি কোনো কিতাবে উক্ত হাদীছ শরীফকে রমাদ্বান শরীফ মাসের ইবাদত হিসাবে তারাবীহ অধ্যায়ে বর্ণনা করেও থাকে, তথাপিও ওটা তারাবীহ নামাযের স্বপক্ষে দলীল হিসাবে পেশ করলে তা গ্রহণযোগ্য হবেনা। কারণ উসূল রয়েছে যে,যখন কোনো (হাদীছ শরীফ-এর মধ্যে) মতবিরোধ দেখা দিবে তখন ওটা দলীল হিসাবে পরিত্যাজ্য হবে।তৃতীয় কারণঃ  তাছাড়া উম্মুল মু’মিনীন হযরত আয়িশা ছিদ্দীক্বা আলাইহাস সালাম উনার থেকে বর্ণিত উক্ত হাদীছ শরীফকে মুহাদ্দিসীনে কিরামগণ সন্দেহযুক্ত বলেছেন। এ প্রসংগে কিতাবে উল্লেখ আছে যে, অধিকাংশ আলেমগণ উক্ত হাদীছ শরীফ-এর ব্যাপারে মতভেদ ব্যক্ত করেছেন। এমন কি কেউ কেউ উক্ত হাদীছকে সন্দেহযুক্ত বলে আখ্যায়িত করেন। (ফাতহুল বারী শরহে বুখারী) 
স্বয়ং উম্মুল মু’মিনীন হযরত আয়িশা ছিদ্দীক্বা আলাইহাস সালাম উনার থেকে সহীহ সনদে চার রাকায়াতের বর্ণনাও রয়েছে। কাজেই সন্দেহযুক্ত হওয়ার কারণে উক্ত হাদীছ শরীফকে তারাবীহ নামাযের দলীল হিসাবে পেশ করা হাদীছ শরীফ-এর উসূল মুতাবিক সম্পূর্ণই অগ্রহণযোগ্য। কারণ, উসুল হলো- সন্দেহযুক্ত হাদীছ শরীফ-এর সন্দেহ যতক্ষণ পর্যন্ত দূর করা না হবে, ততক্ষণ পর্যন্ত উক্ত হাদীছ শরীফ দলীল হিসাবে গ্রহণযোগ্য হবেনা। অতএব, উক্ত হাদীছ শরীফকে দলীল হিসাবে পেশ করতে হলে, প্রথমে উহার সন্দেহ দূর করতে হবে।চতুর্থ কারণঃ  উম্মুল মু’মিনীন হযরত আয়িশা ছিদ্দীক্বা আলাইহাস সালাম উনার থেকে বর্ণিত হাদীছ শরীফখানা যে তাহাজ্জুদ নামায সম্পর্কিত, তার আরো একটি প্রমাণ হলো- উক্ত হাদীছ শরীফ-এ “তিনি উহা চার চার রাকায়াত করে পড়তেন”- একথা উল্লেখ আছে। এর দ্বারা প্রমাণিত হয় যে, তা তারাবীহ নামায নয়। কারণ তারাবীহ নামায দুই, দুই রাকায়াত করে আদায় করা হয়।মূলকথা হলো- উপরোক্ত আলোচনা দ্বারা এটাই সাব্যস্ত হলো যে, আট রাকায়াত তারাবীহ নামাযের স্বপক্ষে বিদায়াতীরা মূল দলীল হিসাবে বুখারী শরীফ-এর যে হাদীছ শরীফখানা পেশ করে থাকে, ওটা মোটেও তারাবীহ নামাযের দলীল নয় বরং ওটা তাহাজ্জুদ নামাযের দলীল। কাজেই আট রাকায়াতের ব্যাপারে তাদের উক্ত দলীল মনগড়া, বানোয়াট ও কল্পনাপ্রসূত। সাথে সাথে এটাও প্রমাণিত হলো যে, সিহাহ সিত্তায় আট রাকায়াত তারাবীহ নামাযের বর্ণনা বা প্রমাণ নেই।
দ্বিতীয়তঃ  তারা আট রাকায়াতের স্বপক্ষে দলীল হিসাবে নিম্নোক্ত হাদীছ শরীফখানা পেশ করে থাকে। হাদীছ শরীফ-এ ইরশাদ হয়েছে যে, মুহম্মদ ইবনে হুমাইদুর রাযী, ইয়াকুব ইবনে আব্দুল্লাহ উনার থেকে, তিনি ঈসা ইবনে জারিয়া হতে, তিনি হযরত জাবির রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন- “সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি রমাদ্বান শরীফ মাসে আট রাকায়াত নামায পড়েছেন এবং বিতর নামায আলাদা আদায় করেছেন। (ক্বিয়ামুল লাইল)
জবাবঃ কয়েকটি কারণে হযরত জাবির রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার থেকে বর্ণিত উক্ত হাদীছ শরীফখানা আট রাকায়াত তারাবীহ নামাযের পক্ষের দলীল হিসাবে গ্রহণযোগ্য নয়।
প্রথম কারণঃ মুহাদ্দিসগণের মতে উক্ত হাদীছ শরীফখানা জঈফ বলে প্রমাণিত। কেননা উক্ত হাদীছ শরীফ-এর তিনজন রাবী জঈফ বলে প্রমাণিত হয়েছেন। তার মধ্যে একজন হলেন- মুহম্মদ ইবনে হুমাইদুর রাযী সম্পর্কে কিতাবে নিম্নোক্ত মত পেশ করা হয়েছে-
১। হাফেজ যাহাবী রহমতুল্লাহি আলাইহি বলেন, মুহম্মদ ইবনে হুমাইদুর রাযী জঈফ রাবী।
২। হযরত ইয়াকুব ইবনে শায়বা রহমতুল্লাহি আলাইহি বলেন, তিনি অনেক মুনকার হাদীছ বর্ণনাকারী।
৩। ইমাম বুখারী রহমতুল্লাহি আলাইহি বলেন,তার ব্যাপারে মতভেদ রয়েছে।
৪। ইমাম আবূ যুরা রহমতুল্লাহি আলাইহি বলেন, তিনি মিথ্যাবাদী।
৫। ইমাম নাসাঈ রহমতুল্লাহি আলাইহি বলেন, তিনি গ্রহণযোগ্য নন। (মিযানুল ই’তেদাল)
উপরোক্ত আলোচনা দ্বারা প্রমাণিত হলো যে, হযরত জাবির রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার থেকে বর্ণিত হাদীছ শরীফখানার প্রথম রাবী মুহম্মদ ইবনে হুমাইদুর রাযী জঈফ।
উক্ত হাদীছ শরীফ-এর দ্বিতীয় জঈফ রাবী হলেন- ইয়াকুব ইবনে আব্দুল্লাহ্,উনার প্রসংগে ইমাম দারে কুৎনী রহমতুল্লাহি আলাইহি বলেন, তিনি শক্তিশালী রাবী নন (বরং দূর্বল)।
উক্ত হাদীছ শরীফ-এর তৃতীয় রাবী হলেন- ঈসা ইবনে জারিয়া, তিনিও জঈফ রাবী। উনার প্রসংগে বলা হয় যে,
১। হযরত ইবনে মুঈন রহমতুল্লাহি আলাইহি বলেন, তার নিকট বহু মুনকার হাদীছ রয়েছে।
২। ইমাম নাসাঈ রহমতুল্লাহি আলাইহি বলেন, তিনি মুনকার হাদীছ বর্ণনাকারী
৩। ইমাম নাসাঈ রহমতুল্লাহি আলাইহি আরো বলেন, তার হাদীছগুলো পরিত্যাজ্য।
৪। “মিযানুল ই’তেদাল” কিতাবে তাকে জঈফ রাবীদের মধ্যে গণ্য করা হয়েছে।
উপরোক্ত আলোচনা দ্বারা প্রমাণিত হলো যে, হযরত জাবির রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার থেকে বর্ণিত হাদীছ শরীফখানা জঈফ। কাজেই জঈফ হাদীছকে সহীহ হাদীছ শরীফ দ্বারা প্রমাণিত বিশ রাকায়াত তারাবীহ নামাযের বিরুদ্ধে দলীল হিসাবে পেশ করা আহমকী ও জিহালত বৈ কিছুই নয়।
দ্বিতীয় কারণঃ  অগত্যা হযরত জাবির রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার থেকে বর্ণিত জঈফ হাদীছখানা যদিও সহীহ হিসাবে ধরে নেই এবং সাথে সাথে উম্মুল মু’মিনীন হযরত আয়িশা ছিদ্দীক্বা আলাইহাস সালাম উনার থেকে বর্ণিত তাহাজ্জুদ নামাযের হাদীছ শরীফখানাকে যদিও তারাবীহ নামাযের দলীল হিসাবে গ্রহণ করা হয়, তথাপিও হাদীছ শরীফ-এর উসূল মুতাবিক ওটার দ্বারা আট রাকায়াত নামায পড়া জায়িজ হবেনা। কেননা উসূল হলো- যদি কোনো বিষয়ে দুই বা ততোধিক মত যুক্ত হাদীছ শরীফ পাওয়া যায়, তবে দেখতে হবে হযরত সাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনাদের আমল কোন হাদীছ শরীফ-এর উপর। উনাদের আমল যে হাদীছ শরীফ-এর উপর হবে, সে হাদীছ শরীফ অনুযায়ীই আমল করতে হবে। যেমনঃ এ প্রসংগে কিতাবে উল্লেখ করা হয়-
১। ইমাম হযরত আবূ দাউদ রহমতুল্লাহি আলাইহি বলেন,“যখন দুই হাদীছ শরীফ-এর মধ্যে বিরোধ দেখা দিবে, তখন লক্ষ্য করতে হবে হযরত সাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনারা কোন হাদীছ শরীফ-এর উপর আমল করেছেন। অর্থাৎ হযরত সাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনারা যে হাদীছ শরীফ মুতাবিক আমল করবেন, ওটাই গ্রহণযোগ্য হবে।” (আবূ দাউদ)
২। ইমাম হযরত মুহম্মদ রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার কিতাবে উল্লেখ করেন যে, “যখন হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার থেকে কোনো বিষয়ে ভিন্ন ভিন্ন হাদীছ শরীফ বর্ণিত হয়, আর তার মধ্য হতে একটির উপর হযরত আবূ বকর ছিদ্দীক্ব আলাইহিস সালাম ও হযরত উমর ইবনুল খাত্তাব আলাইহিস সালাম উনার আমল প্রমাণিত হয়, তখন যে হাদীছ শরীফখানার উপর উনাদের আমল থাকবে, সেটাই দলীল হিসাবে গ্রহণযোগ্য হবে।”
৩। ইমামুল মুজতাহিদীন হযরত আবূ বকর জাছছাছ রহমতুল্লাহি আলাইহি বলেন, “যখন কোনো বিষয়ে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার থেকে দু’টি বিরোধপূর্ণ হাদীছ শরীফ বর্ণিত হয়, আর তার মধ্যে কোনো একটির উপর সলফে সালেহীনগণ আমল করেছেন বলে যদি প্রমাণিত হয়, তবে যে হাদীছ শরীফ-এর উপর সলফে সালেহীনগণ আমল করেছেন, সেটাই উত্তম দলীল হিসাবে সাব্যস্ত হবে। (আহকামুল কুরআন)
উপরোক্ত আলোচনার ভিত্তিতে এটাই সাব্যস্ত হয় যে, তারাবীহ নামাযের পর হযরত ইবনে আব্বাস রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার থেকে বর্ণিত হাদীছ শরীফখানাই দলীল হিসাবে গ্রহণযোগ্য। আর উম্মুল মু’মিনীন হযরত আয়িশা ছিদ্দীক্বা আলাইহাস সালাম ও হযরত জাবির রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার থেকে বর্ণিত হাদীছ শরীফ বা এ ধরণের যত হাদীছ শরীফ রয়েছে তারাবীহ নামাযের ব্যাপারে, তা সম্পূর্ণই পরিত্যাজ্য
কারণ একমাত্র বিশ রাকায়াত সম্পর্কিত হযরত ইবনে আব্বাস রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার হাদীছ শরীফ-এর উপরই খুলাফায়ে রাশেদীন, হযরত সাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু, সলফে সালেহীন, ইমাম, মুজতাহিদ প্রত্যেকেরই আমল রয়েছে। অর্থাৎ উল্লেখিত সকলেই বিশ রাকায়াত তারাবীহ নামায পড়তেন।অতএব, সুস্পষ্টভাবেই প্রমাণিত হলো যে, তারাবীহ নামায বিশ রাকায়াত।
তারাবীহ নামায আট রাকায়াত এ দাবী সম্পূর্ণই বাতিল, অমূলক, মনগড়া ও অজ্ঞতাপ্রসূত।
 তৃতীয়তঃ  কেউ কেউ আবার আট রাকায়াতের স্বপক্ষে নিম্নোক্ত হাদীছ শরীফখানা পেশ করে থাকে। যেমনঃ হাদীছ শরীফ-এ উল্লেখ আছে যে,ইমাম মালেক রহমতুল্লাহি আলাইহি, মুহম্মদ ইবনে ইউসূফ রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার থেকে, তিনি সায়েব ইবনে ইয়াযীদ হতে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন- হযরত উমর ইবনুল খাত্তাব আলাইহিস সালাম, হযরত উবাই ইবনে কা’ব রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু ও হযরত তামীম দারী রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনাদেরকে এগার রাকায়াত নামায পড়ার আদেশ দিয়েছেন। (মুয়াত্তায়ে মালিক)
জবাবঃ নিম্নোক্ত কারণে ওটা দলীল হিসাবে গ্রহণযোগ্য নয়।
১। উক্ত হাদীছ শরীফখানা সন্দেহযুক্ত ইবারত। কারণ মুহম্মদ ইবনে ইউসূফের পাঁচজন ছাত্রের মধ্যে তিনজন এগার রাকায়াত, একজন তের রাকায়াত ও অপরজন একুশ রাকায়াতের কথা বর্ণনা করেছেন। আবার যে তিনজন এগার রাকায়াতের পক্ষে মত পেশ করেছেন, তাদের বর্ণনার মধ্যেও একজনের ইবারতের সাথে অপরজনের ইবারতের পার্থক্য রয়েছে। কাজেই উক্ত হাদীছ শরীফখানা যেহেতু সন্দেহযুক্ত তাই ওটা দলীল হিসাবে গ্রহণযোগ্য নয়।
২। যে ইমাম মালেক রহমতুল্লাহি আলাইহি উক্ত হাদীছ শরীফখানা বর্ণনা করেন, স্বয়ং তিনিই উক্ত হাদীছ শরীফকে তারাবীহ নামাযের ব্যাপারে আমলের উপযুক্ত মনে করেন না, আর তাই তিনি আট রাকায়াতের স্বপক্ষে কোনো মত পেশ করেননি। বরং বিশ রাকায়াতের স্বপক্ষেই রায় দিয়েছেন ও বিশ রাকায়াতের মতকেই গ্রহণ করেছেন।যেমনঃ ইমাম মালেক রহমতুল্লাহি আলাইহি বলেন, “হযরত ইয়াযীদ ইবনে রোমান রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু বলেন, হযরত উমর ইবনুল খাত্তাব আলাইহিস সালাম উনার সময় লোকেরা বিতরসহ বিশ রাকায়াত (তারাবীহ) নামায পড়তেন। (মুওয়াত্তায়ে ইমাম মালেক পৃষ্ঠা-৪০, অনুরূপ বায়হাক্বী শরীফ-এ উল্লেখ করা হয়)
 এ প্রসংগে কিতাবে আরো উল্লেখ আছে যে, ইমাম মালেক রহমতুল্লাহি আলাইহি (উনার দু’টি মত হতে), হযরত ইমাম আবূ হানীফা,হযরত ইমাম শাফেয়ী, হযরত ইমাম আহমদ ও হযরত ইমাম আবূ দাউদ রহমতুল্লাহি আলাইহিম উনারা বিতর ব্যতীত বিশ রাকায়াত তারাবীহ নামাযের মতকেই গ্রহণ করেছেন। (বিদায়াতুল মুজতাহিদ)
৩। যদি হযরত উমর ইবনুল খত্তাব আলাইহিস সালাম আট রাকায়াতের নির্দেশই দিতেন, তবে পরবর্তীতে হযরত উছমান যিন নুরাইন আলাইহিস সালাম এবং হযরত আলী কাররামাল্লাহু ওয়াজহাহু আলাইহিস সালাম অথবা অন্যান্য সাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনারদের থেকেও এরূপ বর্ণনা বা আমল পাওয়া যেত, কিন্তু কোথাও এর প্রমাণ নেই। বরং এর বিপরীত বিশ রাকায়াতের বর্ণনা কিতাবে ঠিকই বর্ণিত হয়েছে।যেমনঃ এ প্রসংগে কিতাবে উল্লেখ করা হয় যে, লোকেরা হযরত উমর ইবনুল খত্তাব আলাইহিস সালাম উনার খিলাফতকালে বিশ রাকায়াত তারাবীহ নামায পড়তেন। অনুরূপ হযরত উছমান যিন নুরাইন আলাইহিস সালাম এবং হযরত আলী কাররামাল্লাহু ওয়াজহাহু আলাইহিস সালাম উনার খিলাফতকালেও বিশ রাকায়াত নামায পড়া হতো। (এটা বায়হাক্বী সহীহ সনদে বর্ণনা করেন) 
কিতাবে আরো উল্লেখ আছে যে, “নিশ্চয়ই হযরত আলী কাররামাল্লাহু ওয়াজহাহু আলাহিস সালাম এক ব্যক্তিকে, আমাদের নিয়ে বিশ রাকায়াত তারাবীহ নামায পড়ার আদেশ দিয়েছেন। (বায়হাক্বী, কানযূল উম্মাল)
৪। যদিও ধরে নেই যে, প্রথম দিকে হযরত উমর ইবনুল খত্তাব আলাইহিস সালাম এগার রাকায়াত নামায পড়ার আদেশ দিয়েছেন, তথাপি ওটা দলীল হিসাবে গ্রহণযোগ্য নয়। কারণ, সহীহ রেওয়াতে বর্ণিত আছে যে, হযরত উমর ইবনুল খাত্তাব আলাইহিস সালাম, হযরত উছমান যিন নুরাইন আলাইহিস সালাম ও হযরত আলী কাররামাল্লাহু ওয়াজহাহু আলাইহিস সালাম সহ সকল সাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনারা পরবর্তীতে নিয়মিতভাবে বিশ রাকায়াত তারাবীহ নামায আদায় করেন এবং বিশ রাকায়াতের উপরই ইজমা প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। আর কারো পক্ষেই প্রমাণ করা সম্ভব না যে, আট রাকায়াতের উপর ইজমা হয়েছে। কাজেই এ দৃষ্টিকোন থেকেও আট রাকায়াতের দাবী সম্পূর্ণ অবান্তর প্রমাণিত হলো।অতএব প্রমাণিত হলো যে, আট রাকায়াতের স্বপক্ষে উক্ত হাদীছখানা মোটেও গ্রহণযোগ্য বা অনুসরণীয় নয়। আট রাকায়াতের পক্ষে তাদের এ দলীলখানাও অগ্রাহ্য ও বাতিল বলে প্রমাণিত হলো।
মোট কথা হলো- আট রাকায়াতের স্বপক্ষে তারা মজবুত, অকাট্য ও নির্ভরযোগ্য কোনো দলীলই পেশ করতে পারবেনা। পক্ষান্তরে সহীহ হাদীছ, ইজমায়ে আযীমত, আমলে উম্মত ও অসংখ্য অকাট্য, নির্ভরযোগ্য দলীলের দ্বারা সুস্পষ্টভাবে প্রমাণিত যে, সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম রমাদ্বান শরীফ মাসে জামায়াতের সহিত ও জামায়াত ব্যতীত সর্বাবস্থায় বিশ রাকায়াত তারাবীহ নামায আদায় করেছেন

৩টি মহামূল্যবান কারণে জানাযার নামাজে শরীক হওয়া জরুরী

138প্রত্যেক নর এবং নারীদের মৃত্যুর স্বাদ গ্রহণ করতে হবে। তবে মুসলমানদের মৃত্যুর পর জানাযা  করার পরেই কেবল দাফন করা হয়। কিন্তু কোন কোন জায়গায় দেখা যায় জানাযার মানুষের সংখ্যা খুবই কম। অনেকেই ইচ্ছে করে জানাযার নামাজে শরীক হন না। কিন্তু মুসলমান হিসেবে জানাযার নামাযে শরীক হওয়া খুব বেশি জরুরী। কারণ-
১। আরবি হাদিস
عَن عَائِشَة رَضِيَ اللهُ عَنهَا، قَالَتْ: قَالَ رَسُولُ اللهِ ﷺ: « مَا مِنْ مَيتٍ يُصَلِّي عَلَيْهِ أُمَّةٌ مِنَ المُسْلِمِينَ يَبْلُغُونَ مِئَةً كُلُّهُمْ يَشْفَعُونَ لَهُ إِلاَّ شُفِّعُوا فِيهِ ». رواه مسلم
বাংলা হাদিস
আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহা বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, যে মৃতের জানাযার নামায একটি বড় জামাআত পড়ে, যারা সংখ্যায় একশ’ জন পৌঁছে এবং সকলেই তার ক্ষমার জন্য সুপারিশ করে, তার ব্যাপারে তাদের সুপারিশ গ্রহণ করা হয়।’’ [মুসলিম ৯৪৭, তিরমিযি ১০২৯, নাসায়ি ১৯৯১, আহমদ ১৩৩৯৩, ২৩৫১৮, ২৩৬০৭, ২৪১৩৬, ২৫৪১৯]
২। আরবি হাদিস
عَن أَبِي هُرَيرَةَ رضي الله عنه، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللهِ ﷺ: « مَنْ شَهِدَ الجَنَازَةَ حَتَّى يُصَلَّى عَلَيْهَا، فَلَهُ قِيراطٌ، وَمَنْ شَهِدَهَا حَتَّى تُدْفَنَ، فَلَهُ قِيرَاطَانِ » قِيلَ: وَمَا القِيرَاطانِ ؟ قَالَ: « مِثْلُ الجَبَلَيْنِ العَظِيمَيْنِ ». متفقٌ عَلَيْهِ
বাংলা হাদিস
আবূ হুরাইরা রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, যে ব্যক্তি নামায পড়া পর্যন্ত জানাযায় উপস্থিত থাকবে, তার জন্য এক ক্বীরাত্ব সওয়াব রয়েছে। আর যে ব্যক্তি দাফন করা পর্যন্ত উপস্থিত থাকবে, তার জন্য দুই ক্বীরাত সওয়াব রয়েছে।’’ জিজ্ঞাসা করা হল, দুই ক্বীরাতের পরিমাণ কতটুকু?’ তিনি বললেন, দুই বড় পাহাড়ের সমান।’’ [বুখারি ৪৭, ১৩২৪, ১৩২৫, মুসলিম ৯৪৫, তিরমিযি ১০৪০, নাসায়ি ১৯৯৪, থেকে ১৯৯৭, ৫০৩২, আবু দাউদ ৩১৬৮, ইবন মাজাহ ১৫৩৯, আহমদ ৪৪৩৯, ৭১৪৮, ৭৩০৬, ৭৬৩৩, ৭৭১৮, ৮০৬৬, ৮৭৮৯, ১০৪৯]
৩। আরবি হাদিস
وَعَنْ مَرثَدِ بنِ عَبدِ اللهِ اليَزَنِيِّ، قَالَ: كَانَ مَالِكُ بنُ هُبَيْرَةَ رضي الله عنه إِذَا صَلَّى عَلَى الجَنَازَةِ، فَتَقَالَّ النَّاس عَلَيْهَا، جَزَّأَهُمْ عَلَيْهَا ثَلاَثَةَ أَجْزَاءٍ، ثُمَّ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللهِ ﷺ: « مَنْ صَلَّى عَلَيْهِ ثَلاَثَةُ صُفُوفٍ فَقَدْ أَوْجَبَ ». رواه أَبُو داود والترمذي، وَقَالَ: «حديث حسن »
বাংলা হাদিস
মারষাদ ইবনে আব্দুল্লাহ য়্যাযানী বলেন, মালেক ইবনে হুবাইরাহ রাদিয়াল্লাহু আনহু যখন (কারো) জানাযার নামায পড়তেন এবং লোকের সংখ্যা কম বুঝতে পারতেন, তখন তিনি তাদেরকে তিন কাতারে বণ্টন করতেন। তারপর তিনি বলতেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, তিন কাতার (লোক) যার জানাযা পড়ল, সে (জান্নাত) ওয়াজেব করে নিল।’’ [আবু দাউদ ৩১৬৬, তিরমিযি ১০২৮, ইবন মাজাহ ১৪৯০, আহমদ ১৬২৮৩]

কুরআন ও হাদিসের আলোকে নামায না পড়ার শাস্তি ।।

  ধর্ম ও জীবন

10363652_675298869247724_1686680947222045195_n
যারা নামায পড়েনা তাদের জন্য আল্লাহ্ পাক পনেরটি আজাব নির্দিষ্ট করিয়া রাখিয়াছেন।পনেরটি আজাবের মধ্যে ছয়টি দুনিয়ায়, তিনটি মৃত্যুর সময়, তিনটি কবরের মধ্যে এবং বাকি তিনটি হাশরের মধ্যে দেয়া হইবে।
# দুনিয়াতে ছয়টি আযাবঃ
১. তাহার জীবনে কোনরূপ বরকত পাইবেনা।
২. আল্লাহ্ তার চেহারা হইতে নেক লোকের চিহ্ন উঠাইয়া লইবেন।
৩. যে যাহা কিছু নেক কাজ করবে, তাহার ছওয়াব পাইবেনা।
৪. তাহার দোয়া আল্লাহ্ পাকের নিকট কবুল হইবে না।
৫. আল্লাহ্ পাকের সমস্ত ফেরেশতা তাহার উপর অসন্তুষ্ট থাকবে।
৬. ইসলামের মূল্যবান নেয়ামত সমূহ হইতে বঞ্চিত করা হইবে।
# মৃত্যুর সময় আজাব তিনটিঃ
১. অত্যন্ত দুর্দশাগ্রস্ত হইয়া মৃতু্যবরণকরিবে।
২. ক্ষুধার্ত অবস্থায় মৃত্যু বরন করিবে।
৩. মৃত্যুকালে তাহার এত পিপাসা পাইবে যে,তাহার ইচ্ছা হইবে দুনিয়ার সমস্ত পানি পান করিয়া ফেলিতে।
# কবরের মধ্যে তিনটি আজাবঃ
১. তাহার কবর এমন সংকীর্ণ হবে যে তাহার এক পাশের হাড় অপর পাশের হাড়ের সংগে মিলিত হইয়া চূর্ণবিচূর্ণ হইয়া যাইবে।
২. তাহার কবরে, দিনরাত্রি সবসময় আগুন জ্বালাইয়া রাখা হবে।
৩. আল্লাহ্ তাহার কবরে একজন আজাবের ফেরেশ্তা নিযুক্ত করিবেন। তাহার হাতে লোহার মুগুর থাকবে। সে মৃত ব্যক্তিকে বলতে থাকবে যে,দুনিয়ায় কেন নামায পড় নাই। আজ তাহার ফল ভোগ কর। এই বলিয়া ফজর নামায না পড়ার জন্য ফজর হইতে জোহর পর্যন্ত, জোহর নামাযের জন্য জোহর থেকে আছর পর্যন্ত, আছরের নামাযের জন্য আছর থেকে মাগরিব পর্যন্ত, মাগরিবের নামাযের জন্য মাগরিব হইতে এশা পর্যন্ত এবংএশার নামাযের জন্য এশা হইতে ফজর পর্যন্ত লোহার মুগুর দ্বারা আঘাত করতে থাকবে।
আমাদের মধ্যে যারা মুসলিম আছে আসুন ভাই আমরা সকল ভাই ও বোনেরা নিয়মিত এবং সময়মত নামাজ পড়ি, অপর ভাইদের ও বলি নামাজ পরার জন্য। তাহলেই একমাত্র আমাদের সমাজ এ প্রকৃত শান্তি ও মুক্তি আসবে। আরেকটা কথা আপনাদের মধ্যে যেসব ভাই/বোনেরা না পড়ে লাইক করেন তাদের বলছি,ভাই দয়া করে আগে পড়ুন আমরা চাই আমাদের আসব পোস্ট থেকে যেন আপনারা উপকৃত হন, আপনরা যেন কিছু শিখতে পারেন ,তাহলে আমরা সওয়াব পাব আর আপনা্রাতো পাবেনই । তাই ভাই দয়া করে আগে পড়ুন তার পর যদি ভাল লাগে তাহলে লাইক দিন। আর ভাই আপনারা এই পোস্ট শেয়ার করে আপনার বন্ধুদের ও জানার সুযোগ করে দিতে পারেন।

বিজ্ঞানের আলোকে নামাজের অবিশ্বাস্য ১১ টি উপকারিতা। (আপডেট)

sneha_ullal_hot_wallpapers_53আমাদের পবিএ কুরআনশরীফে পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ আদায় করার ব্যাপারে বিশেষ ভাবে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।আমরা অনেকেই ভাবি নামাজের উপকারিতা বলতে পরকালের শান্তির কথা।আসলে শুধু তাই নয় নামাযে রয়েছে বিশাল উপকার আর এই বিঙ্গান সম্মত এই উপকারের কথা বলা হয়েছে আজ থেকে ১৪০০ বছর আগে।ইসলামই একমাএ ধম যার সাথে বিঙ্গানের মিল রয়েছে।কেবল মাএ পবিএ কুরআনশরীফের কথা ১০০% এর মধ্যে ৮০% বিঙ্গান প্রমান করতে পেরেছে।আর বাকি ২০% বিঙ্গান বের করতে পারেনি কারন সেটি প্রমান করার মত প্রযুক্তি এখনো পৃথিবীতে আসেনি।নামাজের মধ্যে যে কি পরিমান বিঙ্গান লুকায়িত আছে তা নিম্ন বননা করা হলঃ

১। নামাজে যখন সিজদা করা হয় তখন আমাদের মস্তিস্কে রক্ত দ্রুত প্রবাহিত হয়।ফলে আমাদের সৃতি শক্তি অনেক বৃদ্ধি পায়।
২।নামাজের যখন আমরা দাড়াই তখন আমাদের চোখ জানামাজের সামনের ঠিক একটি কেন্দ্রে স্থির অবস্থানে থাকে ফলে আমাদের মনোযোগ বৃদ্ধি পায়।
৩।নামাজের মাধ্যমের আমাদের শরীরের একটি ব্যায়াম সাধিত হয়।এটি এমন একটি ব্যায়াম যা ছোট বড় সবাই করতে পারে।
৪।নামাজের মাধ্যমের আমাদের মনের অসাধারন পরিবতন আসে।
৫।নামাজ সকল মানুষের দেহের কাঠামো বজায় রাখে।ফলে শারীরিক বিকলঙ্গতা লোপ পায়।

৬।নামাজ মানুষের ত্বক পরিষ্কার রাখে যেমন ওজুর সময় আমাদের দেহের মূল্যবান অংশগুলো পরিষ্কার করা হয় এর ফলে বিভিন্ন প্রকার জীবানু হতে আমরা সুরক্ষিত থাকি।
৭।নামাজে ওজুর সময় মুখমন্ডল ৫বার ধৌত করার ফল আমাদের মুখের ত্বক উজ্জল হয় এবং মুখের দাগ কম দেখা যায়।
৮।ওজুর সময় মুখমন্ডল যেভাবে পরিস্কার করা হয় তাতে আমাদের মুখে একপ্রকার মেসেস তৈরি হয় ফলে আমাদের মুখের রক্ত প্রবাহ বৃদ্ধি পায় এবং বলিরেখা কমে য়ায।
৯।কিশোর বয়সে নামাজ আদায় করলে মন পবিএ থাকে এর ফলে নানা প্রকার অসামাজিক কাজ সে বিরত থাকে।
১০।নামাজ আদায় করলে মানুষের জীবনি শক্তি বৃদ্ধি পায়।
১১।কেবল মাএ নামাজের মাধ্যমেই চোখের নিয়ম মত যত্ন নেওয়া হয় ফলে অধিকাংশ নামাজ আদায় কারী মানুষের দৃষ্টি শক্তি বজায় থাকে।

জুম্মার নামাজের ফজিলত


আসসালামু আলাইকুম বন্ধুরা, কেমন আছেন সবাই। আজ আপনাদের সামনে জুম্মার ফজিলত সম্পর্কে কিছু হাদিস তুলে ধরলাম ।ভুল-ত্রুটির জন্য ক্ষমা চাচ্ছি ।চলুন হাদীস গুলো এক পলক দেখে আসি। জুমু’আর দিনের মর্যাদা: হযরত আবু লুবাবা ইবনে আবদুল মুনযির (রা:) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (সা:) বলেছেন, জুমু’আর দিন সকল দিনের সরদার। আল্লাহর নিকট সকল দিনের চেয়ে মর্যাদাবান। কোরবানীর দিন ও ঈদুল ফিতরের দিনের চেয়ে বেশী মর্যাদাবান। আবু হুরাইরা (রা:) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: আমরা শেষে এসেছি কিন্তু কেয়ামতের দিন সকলের আগে থাকবো। যদিও অন্য সকল জাতিগুলো (ইহুদী ও খৃষ্টান) কে গ্রন্থ দেয়া হয়েছে আমাদের পূর্বে, আমাদের গ্রন্থ দেয়া হয়েছে তাদের পরে। অত:পর জেনে রাখো এই (জুমার) দিনটি আল্লাহ আমাদের দান করেছেন। তিনি এ ব্যাপারে আমাদের সঠিক পথের দিশা দিয়েছেন। আর অন্য লোকেরা এ ব্যাপারে আমাদের পিছনে আছে। ইহুদীরা জুমার পরের দিন (শনিবার) উদযাপন করে আর খৃষ্টানেরা তার পরের দিন (রবিবার) উদযাপন করে। (বর্ণনায়: বুখারী ও মুসলিম) আসুন আমরা জুম্মার দিনে আগে ভাগে মসজিদে যাই, আমি আপনি যদি একটু আগে ভাগে মসজিদে যাই তবে এর জন্য অনেক ফজিলত রয়েছে। হাদিসে আছে জুম্মার দিনে আগে ভাগে মসজিদে গেলে দান-খয়রাত বা পশু কুরবানী করার সমতুল্য সওয়াব পাওয়া যায়। আবু হুরায়রা (রাঃ) বর্ণিত এক হাদীসে রাসুল (সাঃ) বলেছেন, “যে ব্যাক্তি জু’আর দিন ফরজ গোসলের মত গোসল করে প্রথম দিকে মসজিদে হাজির হয়, সে যেন একটি উট কুরবানী করল, দ্বিতীয় সময়ে যে ব্যাক্তি মসজিদে প্রবেশ করে সে যেন একটি গরু কুরবানী করল, তৃতীয় সময়ে যে ব্যাক্তি মসজিদে প্রবেশ করল সে যেন একটি ছাগল কুরবানী করল। অতঃপর চতুর্থ সময়ে যে ব্যাক্তি মসজিদে গেল সে যেন একটি মুরগী কুরবানী করল। আর পঞ্চম সময়ে যে ব্যাক্তি মসজিদে প্রবেশ করল সে যেন একটি ডিম কুরবানী করল। অতঃপর ইমাম যখন বেরিয়ে এসে মিম্বরে বসে গেলেন খুৎবার জন্য, তখন ফেরেশতারা লেখা বন্ধ করে খুৎবা শুনতে বসে যায়।” (বুখারীঃ ৮৮১, ইফা ৮৩৭, আধুনিক ৮৩০) যে ব্যাক্তি আদব রক্ষা করে জুম’আর সালাত আদায় করে তার প্রতিটি পদক্ষেপের বিনিময়ে তার জন্য পুরো এক বছরের রোজা পালন এবং রাত জেগে তাহাজ্জুদ পড়ার সমান সওয়াব লিখা হয়। আউস বিন আউস আস সাকাফী (রাঃ) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সাঃ) বলেছেন: “জুমা’আর দিন যে ব্যাক্তি গোসল করায় (অর্থাৎ সহবাস করে, ফলে স্ত্রী ফরজ গোসল করে এবং) নিজেও ফরজ গোসল করে, পূর্বাহ্ণে মসজিদে আগমন করে এবং নিজেও প্রথম ভাগে মসজিদে গমন করে, পায়ে হেঁটে মসজিদে যায় (অর্থাৎ কোন কিছুতে আরোহণ করে নয়), ইমামের কাছাকাছি গিয়ে বসে, মনোযোগ দিয়ে খুৎবা শোনে, কোন কিছু নিয়ে খেল তামাশা করে না; সে ব্যাক্তির প্রতিটি পদক্ষেপের জন্য রয়েছে বছরব্যাপী রোজা পালন ও সারা বছর রাত জেগে ইবাদত করার সমতুল্য সওয়াব।” (মুসনাদে আহমাদঃ ৬৯৫৪, ১৬২১৮) আপনারা খেয়াল করলে দেখবেন আমরা যখন মসজিদে যাই তখন সেখানে তিন ধরনের মানুষ দেখতে পাই, যা হুজুর (সা:) এর নিম্নোক্ত হাদিস দ্বারা প্রমাণিত হয়: রাসুলুল্লাহ (সাঃ) বলেছেন, “জুম’আর সালাতে তিন ধরনের লোক হাজির হয়। (ক) এক ধরনের লোক আছে যারা মসজিদে প্রবেশের পর তামাশা করে, তারা বিনিময়ে তামাশা ছাড়া কিছুই পাবে না। (খ) দ্বিতীয় আরেক ধরনের লোক আছে যারা জুম’আয় হাজির হয় সেখানে দু’আ মুনাজাত করে, ফলে আল্লাহ যাকে চান তাকে কিছু দেন আর যাকে ইচ্ছা দেন না। (গ) তৃতীয় প্রকার লোক হল যারা জুম’আয় হাজির হয়, চুপচাপ থাকে, মনোযোগ দিয়ে খুৎবা শোনে, কারও ঘাড় ডিঙ্গিয়ে সামনে আগায় না, কাউকে কষ্ট দেয় না, তার দুই জুম’আর মধ্যবর্তী ৭ দিন সহ আরও তিনদিন যোগ করে মোট দশ দিনের গুনাহ খাতা আল্লাহ তায়ালা মাফ করে দেন।” (আবু দাউদঃ ১১১৩) যে সকল মসলমান জুম’আর নামাজ অত্যন্ত আদবের প্রতি লক্ষ্য রেখে আদায় করে, সেই সকল আদায়কারীদের জন্য দুই জুম’আর মধ্যবর্তী সময় গুনাহের কাফফারা স্বরূপ। রাসুলুল্লাহ (সাঃ) বলেছেন, “পাঁচ বেলা সালাত আদায়, এক জুম’আ থেকে পরবর্তী জুম’আ, এক রমজান থেকে পরবর্তী রমজানের মধ্যবর্তী সময়ে হয়ে যাওয়া সকল (সগীরা) গুনাহের কাফফারা স্বরূপ, এই শর্তে যে, বান্দা কবীরা গুনাহ থেকে নিজেকে বাঁচিয়ে রাখবে।” (মুসলিমঃ ২৩৩) জুমু’আর দিনে কিছু করণীয় কাজ নিচে দেয়া হলো: ১, ফজরের আগে গোসল করা। ২, ফজরের ফরজ নামাজ়ে সূরা সাজদা [সিজদা] ও সূরা দাহর/ইনসান তিলাওয়াত করা। ৩, উত্তম পোষাক পরিধান করা। ৪, সুগন্ধি লাগানো। ৫, প্রথম ওয়াক্তে মসজিদে যাওয়া। ৬, সূরা কাহফ তিলাওয়াত করা। ৭, মসজিদে গিয়ে কমপক্ষে দুই রাকা’আত সুন্নত আদায় করা। ৮, ইমামের কাছাকাছি গিয়ে বসা। ৯, মনযোগ দিয়ে খুৎবাহ শোনা। খুৎবাহ চলাকালীন সময়ে কোন ধরনের কোন কথা না বলা; এমনকি কাউকে কথা বলতে দেখলে তাকে কথা বলতে বারণ করাও কথা বলার শামিল। ১০, দুই খুৎবাহর মাঝের সময়ে দু’আ করা। ১১, অন্য সময়ে দু’আ করা। কারণ এদিন দু’আ কবুল হয়। ১৩, রসূলের উপর সারাদিন বেশী বেশী দরূদ পাঠানো। জুমু’আর দিনের পাঁচটি বৈশিষ্ট্য: ১, এই দিনে আদম (আ:)-কে সৃষ্টি করা হয়েছে। ২, এই দিনে আল্লাহ্ তা’আলা আদম (আ:)-কে দুনিয়াতে নামিয়ে দিয়েছেন। ৩, এই দিনে আদম (আ:) মৃত্যুবরণ করেছেন। ৪, এই দিনে এমন একটি সময় রয়েছে, যে সময়ে হারাম ছাড়া যে কোন জিনিস প্রার্থনা করলে আল্লাহ তা প্রদান করেন। ৫, এই দিনে কিয়ামত সংঘটিত হবে। তাই আসমান, যমীন ও আল্লাহর সকল নৈকট্যশীল ফেরেশতা জুমু’আর দিনকে ভয় করে। (ইবনে মাজাহ্, মুসনাদে আহমদ) যে ব্যক্তি চল্লিশ দিন তাকবিরে উলার সাথে (নামাজ শুরুর তাকবিরের সাথে) পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ জামায়াতের সাথে আদায় করল তার জন্য দু\'টি নাজাত লিপিবদ্ধ করা হল, ১. জাহান্নাম হতে ও ২. মুনাফিক্বী হতে (বুখারী ও মুসলিম মিশকাত ২১৭পৃষ্ঠা)। এবং \'যে ব্যক্তি জামায়াতের সাথে ইশার নামাজ আদায় করল, সে যেন অর্ধেক রাত পর্যন্ত দাঁড়িয়ে (ইবাদত) করল। আর যে ফজরের নামাজ জামায়াতসহ আদায় করল, সে যেন সারা রাত দাঁড়িয়ে (ইবাদত) নামাজ পড়ল\" (মুসলিম)। তিনি আরো বলেন, \"যদি লোকে ইশা ও ফজরের নামাজের ফজীলত জানত, তাহলে তাদেরকে হামাগুঁড়ি দিয়ে আসতে হলেও তারা অবশ্যই ঐ নামাজদ্বয়ে আসত (বুখারী, মুসলিম)। প্রসিদ্ধ তাবেঈ সাঈদ বিন মুসাইয়্যিব (রহ.) ও কা\'ব আল আহবার (রা.) বলেন, আল্লাহর কসম! নিন্মোক্ত আয়াত তাদের সম্পর্কে অবতীর্ণ হয়েছে, যারা নামাজ পড়তে জামায়াতে আসেনা।\' মহান আল্লাহ বলেন, (স্মরণ কর বিচার দিনের কথা) সেদিন পায়ের নলা উন্মোচন করা হবে এবং ওদেরকে সিজদা করার জন্য আহবান করা হবে কিন্তু ওরা তা করতে সক্ষম হবে না, হীনতাগ্রস্থ হয়ে ওরা ওদের দৃষ্টি অবনত করবে, অথচ ওরা যখন নিরাপদ ছিল, তখন ওদের আহবান করা হয়েছিল সিজদা করতে (আল-কুরআন ৬৮/৪২-৪৩)। নামাজের পূর্ণ ফজিলত ও বরকত হাসিল হয় যদি জামায়াতের সাথে আদায় করা হয়। কেননা জামায়াতে নামাজ আদায় করা ওয়াজিব। বস্তুত নামাজের স্বভাব ও প্রকৃত দাবী হল জামায়াতের মাধ্যমেই তার স্বকীয় মহিমায় উদ্ভাসিত হয়ে আত্মপ্রকাশ করতে পারা। এজন্যই রসূলুল্লাহ (স.) এবং সাহাবাগণ জামায়াতের এতো বেশি যতœবান হতেন যেন জামায়াত নামাজের এক অবিচ্ছেদ্য অঙ্গ। এমনকি মৃত্যু যন্ত্রণায় কাতরবস্থায়ও তিনি দুইজনের কাঁধে ভর করে জামায়াতে হাজির হয়েছিলেন। আর সালফে সালেহীনগণ ইমামের সাথে প্রথম তাকবীর না পেলে ৩ দিন ও জামায়াত ছুটে গেলে ৭ দিন দুঃখ প্রকাশ করতেন (মির\'আত-৪/১০২)। জামায়াত ত্যাগ করার কারো অনুমতি থাকলে রণাঙ্গনে শত্রুর সম্মুখে ব্যুহবিন্যাসে দন্ডায়মান যুদ্ধাদেরকে সে অনুমতি দেওয়া হত। অন্ধ সাহাবী আব্দুল্লাহ ইবনে উম্মে মাকতুম (রা.) নবী (স.)-এর কাছে ফরজ নামাজ বাড়িতে পড়ার অনুমতি চাইলে তিনি বলেন, তুমি জামায়াতে উপস্থিত হবে, তোমার জন্য আমি কোন অনুমতি পাচ্ছিনা। পরনির্ভরশীল অন্ধের জন্য এই নির্দেশ হলে সুস্থ-সমর্থ চক্ষুষ্মান; যার কোন ওযর-অন্তরায় নেই তার জন্য কি নির্দেশ হতে পারে? মসজিদের সাথে অন্তরের সম্পর্ক স্থাপনকারীগণকে (জামা\'আতে নামাজ আদায়কারীকে) আল্লাহর (আরশের) ছায়ায় আশ্রয় দেয়া হবে। আসর ও ফজরের সালাত যথারীতি জামা\'আতের সাথে আদায়কারী জান্নাতী হবেন (মুসলিম)। তিনি আরো বলেন, আল্লাহ ও ফেরেশতাগণ জামায়াতের প্রথম কাতারের লোকদের ওপর বিশেষ রহমত নাজিল করে থাকেন। কথাটি তিনি ৩বার বললেন। অতঃপর বলেন, দ্বিতীয় কাতারের ওপরেও (আহমাদ,দারেমী ও সহীহুল জামে)। আমলের ক্ষেত্রে ফরজ ও সুন্নত নামাজকে একাকার করে রাখার কারণেই যত ব্যস্ততাই থাকুক না কেন জোহরের নামাজের জন্য মসজিদে প্রবেশ করলে ফরজ পূর্ব ৪রাকাআত+ফরজ ৪রাকাআত+ফরজ বাদ ২রাকাআত=এই মোট ১০রাকাআত নামাজ না পড়ে মসজিদ থেকে বের হতে পারবে না। অথচ শুধু ৪রাকাআত জামায়াতে ফরজ পড়ে বের হয়ে গেলেই সে নামাজ পরিত্যাগকারীর যাবতীয় শাস্তি, কুপরিণতি ও ক্ষতি থেকে মুক্ত হয়ে যেত। একা নামাজ পড়ার চেয়ে পাঞ্জেগানা ওয়াক্তিয়া মসজিদে জামায়াতে নামাজ পড়লে ২৫ থেকে ২৭ গুণ সওয়াব হয়। দু\'জনের নামাজ একাকীর চাইতে উত্তম। এভাবে জামায়াত যত বড় হয়, নেকী তত বেশী হয়। মদিনার মসজিদে নববীতে পড়লে একহাজার গুণ এবং কা\'বা গৃহে পড়লে একলক্ষ গুণ সওয়াব বেশী হয় (বুখারী,মুসলিম মিশকাত ৭২পৃষ্ঠা)। \"যে ব্যক্তি কোন ফরজ নামাজ আদায়ের উদ্দেশ্যে স্বগৃহ থেকে ওযু করে জামায়াতের জন্য (মসজিদের দিকে) বের হয় সেই ব্যক্তি ইহরাম বাঁধা হাজীর ন্যায় সওয়াবের অধিকারী হবেন (আবূদাউদ)। ইবনে মাসউদ (রা.) বলেন, \'যে ব্যক্তি কেয়ামতের ময়দানে আল্লাহর সাথে মুসলিম হয়ে সাক্ষাতের ইরাদা রাখে তার উচিত সুন্দরভাবে পবিত্রতা অর্জন (অযু) করে স্রেফ নামাজের উদ্দেশ্যে ঘর থেকে বের হওয়া, তাহলে তার প্রতি পদক্ষেপের বিনিময়ে একটি করে নেকী লিপিবদ্ধ করা হবে, একটি করে মর্যাদার স্তর উন্নীত ও তার পাপ মোচন করা হবে। আমরা দেখেছি যে, বিদিত কপট (মুনাফিক) ছাড়া নামাজের জামায়াত থেকে কেউ পশ্চাতে থাকত না। রসূলুল্লাহ (স.) বলেন, মুনাফিদের ওপরে ফজর ও ইশার জামায়াতের চাইতে কঠিন কোন নামাজ নেই। (মুত্তাফাক্ব আলাইহ) অথচ সে সময় মানুষকে দু\'টি লোকের কাঁধে ভর করে হাঁটিয়ে এনে কাতারে খাড়া করা হত (মুসলিম-৬৫৪)। তিনি বলেন, তোমরা সামনের কাঁতারের দিকে অগ্রসর হও। কেননা যারা সর্বদা পিছনে থাকবে, আল্লাহ তাদেরকে (স্বীয় রহমত থেকে) পিছনে রাখবেন (মুসলিম) অন্য বর্ণনায় এসেছে, আল্লাহ তাদেরকে জাহান্নাম পর্যন্ত পিছিয়ে দেবেন (আবূদাউদ)।

.সবর ও নামাজের মাধ্যমে সাহায্য চান

সবর ও নামাজের মাধ্যমে সাহায্য চান 
মহান আল্লাহ তায়ালা এরশাদ করেন,

“হে ইমানদারগণ ! সবর (ধৈর্য) ও নামাযের মাধ্যমে সাহায্য চাও । নিশ্চয় আল্লাহ সবরকারীদের সাথে রয়েছেন ।”

[সূরা বাক্বারা; আয়াত ১৫৩, পারা ২,অনুবাদঃ কানযুল ইমান ৫৭ পৃষ্ঠা ]