NOTICE:- ------------------ ----------------- ---------------------------

154.আমরা কি জানি বাউলতত্ত্ব কী?

 বা এতে কী বলা রয়েছে?
আমরা কিন্তু জানি না। তারচেয়ে বড় কথা আমরা জানি না লালন আসলে কে?

লালন ছিলেন বাউল সম্প্রদায়ের গুরু।
আমরা কি জানি কারা এই বাউল সম্প্রদায়? কি তাদের ধর্মবিশ্বাস ও জীবনাচরণ?

৯৭ভাগ মুসলিম অধ্যুষিত একটি দেশে সংখ্যাগরিষ্ঠ জনগণের ধর্মীয় বিশ্বাস ও
মূল্যবোধের সাথে লালন ফকির বা বাউল সম্প্রদায়ের আচার-আচরণ, বিশ্বাস ও
মূল্যবোধ আসলে কতটুকু সম্পর্কিত?

সর্বোপরি যারা বাউল সংস্কৃতিকে বাঙ্গালীর
সংস্কৃতি বলে ১২ কোটি মুসলিমের ঘাড়ে চাপিয়ে দিতে চাইছে তাদের এসব কর্মকান্ডের উদ্দেশ্যই বা কি?

বাউল সম্প্রদায় সম্পর্কে যারা পড়াশোনা করেছেন তাদের কাছে প্রয়াত লেখক আহমদ শরীফের “বাউল তত্ত্ব” এবং লালন একাডেমীর প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক ডক্টর
আনোয়ারুল করিমের “বাংলাদেশের বাউল-
সমাজ, সাহিত্য ও সংগীত” নামের বই দুটো খুবই পরিচিত। বাউল শব্দটির উৎস ও এই সম্প্রদায়ের ধর্মবিশ্বাস সম্পর্কে ডক্টর আনোয়ারুল করিম তার বাংলাদেশের বাউল বইতে যা লিখেছেন তার সারাংশ হল, "প্রাচীন
প্যালেস্টাইন এর রাসসামরায় বা’আল নামের
একজন প্রজনন দেবতার উপাসনা করা হতো। তৌরাত, ইঞ্জিল(বাইবেল), কোরান মজিদসহ সকল ধর্মগ্রন্থেই এই দেবতাকে তীব্র
নিন্দা করা হয়েছে এবং তার উপাসনা থেকে সকলকে বিরত থাকার জন্য নির্দেশ দেয়া হয়েছে। মূলত বা’আল প্রজনন-দেবতা হওয়ায় মৈথুন বা যৌনাচার এই ধর্মের অঙ্গীভূত হয়ে পড়ে। এই বা’আল ধর্ম এক্সময় এ উপমদেশীয় অঞ্চলেও ব্যাপকভাবে প্রভাব
ফেলে। পরবর্তীতে এ অঞ্চলে ইসলামের
সুফীবাদী মতবাদের প্রচার-প্রসার ঘটার পর সম্ভবত ইসলাম ও পৌত্তলিকতা উভয়
মতবাদের সংমিশ্রণে একটি নতুন লোকধর্মের উদ্ভব ঘটেছিল যার উপরিভাগে ছিল
মুসলিম সূফীবাদের প্রাধান্য, অভ্যন্তরে ছিল
তন্ত্র ও যোগনির্ভর দেহজ সাধনা। তাই তার
ধারণা মতে কালক্রমে এই বা’আল লোকধর্মই
পরবর্তীতে বাউল লোকধর্মে পরিণত
হয়েছে এবং লোকনিরুক্তি অনুসারে বাউল
শব্দটি বা’আল>বাওল>বাউল এভাবে পরিবর্তিত হয়ে এসেছে।"
(বাংলাদেশ বাউল পৃষ্ঠা ১৩৩-১৪৫)

ডা.আহমদ শরীফ তার “বাউলতত্ত্ব” বইটিতে বাউল ধর্মমত সম্পর্কে বলেন, “ব্রাহ্মণ্য, শৈব ও বৌদ্ধ সহজিয়া মতের সমবায়ে গড়ে উঠেছে একটি মিশ্রমত যার নাম নাথপন্থ। …
দেহতাত্ত্বিক সাধনাই এদের লক্ষ্য। (নাথপ্নথ
এবং সহজিয়া) এ দুটো সম্প্রদায়ের লোক
একসময় ইসলাম ও বৈষ্ণব ধর্মে দীক্ষিত হয়, কিন্তু পুরনো বিশ্বাস-সংস্কার বর্জন করা সম্ভব হয়নি বলেই ইসলাম ও বৈষ্ণব ধর্মের
আওতায় থেকেও এরা পুরনো প্রথায় ধর্ম
সাধনা করে চলে, তার ফলেই হিন্দু-মুসলমানের মিলিত বাউল মতের উদ্ভব।
তাই হিন্দু গুরুর মুসলিম সাগরেদ বা মুসলিম গুরুর হিন্দু সাগরেদ গ্রহণে কোন বাধা নেই। তারা ব্রাহ্মণ্য ধর্ম ও শরিয়তী ইসলামের বেড়া ভেঙে নিজের মনের মত করে পথ তৈরি করে নিয়েছে। এজন্য তারা বলে, “কালী কৃষ্ণ গড খোদা/কোন নামে নাহি বাধা মন কালী কৃষ্ণ গড খোদা বলো রে।”
(বাউলতত্ত্ব পৃঃ ৫৩-৫৪)।

সাধারণ জনারণ্যে বাউলরা নাড়ার ফকির নামে পরিচিত। ‘নাড়া’ শব্দটির অর্থ হল
শাখাহীন অর্থাৎ এদের কোন সন্তান হয়না।
তারা নিজেদের হিন্দু মুসলমান কোনকিছু বলেই পরিচয় দেয়না। লালন শাহ ছিলেন বাউলদের গুরু। লালনকে বাউলরা দেবতা জ্ঞানে পূজা করে। তাই তার ‘ওরসে’ তাদের
আগমন এবং ভক্তি অর্পণ বাউলদের ধর্মের অঙ্গ।"
(বাংলাদেশ বাউল পৃঃ ১৪)

লালন শাহের অনুসারীদের একটি অংশ ১৯৮৬ সালের মার্চ মাসে কুষ্টিয়ার জেলা প্রশাসকের দপ্তরে একজন মুসলমান
অধ্যাপকের বিরুদ্ধে অভিযোগ করে বলেন, “আমরা বাউল। আমাদের ধর্ম আলাদা।
আমরা না-মুসলমান, না-হিন্দু। আমাদের
নবী সাঁইজি লালন শাহ। তাঁর গান আমাদের ধর্মীয় শ্লোক। সাঁইজির মাজার আমাদের তীর্থভূমি।।…
আমাদের গুরুই আমাদের
রাসুল। …ডক্টর সাহেব [অর্থাৎ উক্ত মুসলিম অধ্যাপক] আমাদের তীর্থভূমিতে ঢুকে আমাদের ধর্মীয় কাজে বাধা দেন।
কোরান তেলাওয়াত করেন, ইসলামের কথা বলেন… এ সবই আমাদের তীর্থভূমিতে আপত্তিকর। আমরা আলাদা একটি জাতি,
আমাদের কালেমাও আলাদা – লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু লালন রাসুলুল্লাহ।“

(দ্রঃ সুধীর চক্রবর্তী, ব্রাত্য লোকায়ত লালন, ২য় সংস্করণ, আগস্ট ১৯৯৮ পৃঃ ৪-৯৫)

বাউল সাধনায় গুরুশ্রেষ্ঠকে ‘সাঁই’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়। সাধনসঙ্গিনীকেও গুরু
নামে অভিহিত করা হয়। মূলতঃ সাধনসঙ্গিনীর সক্রিয় সাহায্য ব্যতীত সাধনায় সিদ্ধী লাভ করা যায় না। তাই তাকে ‘চেতন গুরু’ বলা হয়। বাউলরা বিশ্বাস করে গুরুর
কোন মৃত্যু নেই। তিনি কেবল দেহরক্ষা করতে পারেন। তিনি চিরঞ্জীবী। বাউলরা মন্দিরে কিংবা মসজিদে যায়না। জুম্মার নামায, ঈদ
এবং রোযাও পালন করেনা। তারা তাদের
সঙ্গিনীকে জায়নামাজ নামে অভিহিত করে।
বাউলরা মৃতদেহকে পোড়ায়না। এদের জানাজাও হয়না।

হিন্দু মুসলমান নামের সব বাউলদের মধ্যেই এই রীতি। এরা সামাজিক বিবাহ বন্ধনকেও অস্বীকার করে। নারী-পুরুষের একত্রে অবাধ
মেলামেশা এবং বসবাসকে দর্শন হিসেবে অনুসরণ করে।"

(বাংলাদেশ বাউল পৃঃ ১৫-১৭)

বাউল সাধনা মূলত একটি আধ্যাত্বসাধনা,
তবে যৌনাচার এই সাধনার অপরিহার্য অঙ্গ। ড. আহমদ শরীফের ভাষায় " কামাচার
বা মিথুনাত্বক যোগসাধনাই বাউল পদ্ধতি।
বাউল সাধনায় পরকীয়া প্রেম এবং গাঁজা সেবন প্রচলিত। বাউলরা বিশ্বাস করে যে,
কুমারী মেয়ের রজঃপান করলে শরীরে রোগ
প্রতিরোধক তৈরী হয়। তাই বাউলদের মধ্যে রজঃপান একটি সাধারণ ঘটনা। এছাড়া, তারা রোগমুক্তির জন্য স্বীয় মূত্র ও স্তনদুগ্ধ পান করে। সর্বরোগ থেকে মুক্তির জন্য তারা মল, মুত্র, রজঃ ও বীর্য মিশ্রণে প্রেমভাজা নামক একপ্রকার পদার্থ তৈরি করে তা ভক্ষণ করে। একজন বাউলের একাধিক সেবাদাসী থাকে। এদের অধিকাংশই কমবয়সী মেয়ে।"

(বাংলাদেশ বাউল পৃ ৩৫০, ৩৮২)

এদেশের সাধারণ মানুষের মধ্যে বাউল সম্প্রদায় সম্পর্কে সঠিক জ্ঞান না থাকায়, অনেক ধর্মপ্রাণ মুসলিমও ধর্মবিবর্জিত বিকৃত
যৌনাচারী মুসলিম নামধারী বাউলদেরকে সূফী- সাধকের মর্যাদায় বসিয়েছে। (নাউযুবিল্লাহ) মূলতঃ বিকৃত যৌনাচারে অভ্যস্ত ভেকধারী এসব বাউলরা তাদের বিকৃত ও কুৎসিত জীবনাচারণকে লোকচক্ষুর
অন্তরালে রাখার জন্য বিভিন্ন গানে মোকাম,
মঞ্জিল, আল্লাহ, রাসূল, আনল হক, আদম-হাওয়া, মুহাম্মদ- খাদিজাসহ বিভিন্ন আরবী পরিভাষা, আরবী হরফ ও বাংলা শব্দ প্রতীকরূপে ইচ্ছাকৃতভাবেই ব্যবহার করেছে।
এদেশে বহুল প্রচলিত একটি লালন সঙ্গীত হলো, “বাড়ির পাশে আরশি নগর/সেথা এক পড়শী বসত করে, আমি একদিনও না দেখিলাম তারে” এই গানটিকে আমাদের
সমাজে খুবই উচ্চমার্গের আধ্যাতিক গান
মনে করা হলেও, এটি মূলত একটি নিছক যৌনাচারমূলক গান, যাতে আরশিনগর,
পড়শী শব্দগুলো প্রতীক হিসেবে ব্যবহার
করা হয়েছে তাদের বিকৃত জীবনাচারকে গোপন রাখার উদ্দেশ্যে।"

(বাংলাদেশ বাউল পৃঃ ৩৬৮-৩৬৯)

বাউল সাধকরা বস্তুতঃ নিরাকার আল্লাহকে সাকারত্ব প্রদান করে তাদের অনুসারীদের
পৌত্তলিকতার পর্যায়ে নিয়ে গেছে।
এরা সাধারণ মানুষের সারল্য, অশিক্ষা ও অজ্ঞতার কারণে তাদের বিভ্রান্ত করেছে এবং এইসব বিকৃত সাধনাসম্বলিত লোকধর্ম
আসলে আমাদের সমাজ জীবনকে ধ্বংশের
দিকে ঠেলে দিয়েছে। সমাজ জীবনে বাউল
লোকধর্মের এই ভয়ঙ্কর প্রভাব লক্ষ্য করে বাংলা ১৩৩৩ সালে হাজী মৌলোভী রেয়াজউদ্দীন আহমদ “বাউল ধ্বংশ ফতওয়া”
নামে বাউলবিরধী একটি বই লেখেন।
যেখানে তিনি এই বাউল সম্প্রদায় সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করেন।

উপরোক্ত আলোচনা থেকে এটা স্পষ্ট যে, ইসলাম, ইসলামী আকিদাহ যা এদেশের আপামর মুসলিমের অন্তর্নিহিত বিশ্বাসের সাথে বাউল সম্প্রদায়ের ধর্মীয় বিশ্বাসের দূরতম সম্পর্ক নেই এবং তা পুরোপুরি শাংঘর্ষিক। শুধু তাই নয়, বিশ্বাসে পৌত্তলিক,
আচার-আচরণে ভয়ঙ্কর কুসংস্কারাচ্ছন্ন, বিকৃত জীবানাচারণ ও অবাধ যৌনাচারে অভ্যস্ত বাউল সম্প্রদায় কোনভাবেই এদেশের মানুষের কৃষ্টি- কালচার বা আত্বপরিচিতির বন্ধনমূল হতে পারেনা।

153. পবিত্র কুরআন শরীফ হচ্ছে আল্লাহ পাক রব্বুল আলামীন উনার কালাম।

পবিত্র কুরআন শরীফ হচ্ছে আল্লাহ পাক রব্বুল আলামীন উনার কালাম। মানুষের পক্ষে স্বল্প জ্ঞানে উক্ত কালামুল্লাহ শরীফ উনার মর্ম অনুধাবন করা সম্ভব নয়। এ কারনে প্রকৃত তাফসীর করার জন্য ইলমে লাদুন্নী বা আল্লাহ পাক প্রদত্ত বিশেষ জ্ঞান শর্ত করা হয়েছে। কুরআন শরীফ উনার মর্ম ব্যাপক। যে কারনে তাফসীর লেখা শুরু হয়েছে বটে কিন্তু শেষ হয় নাই এবং হবেও না।
এ ব্যাপারে কিতাবে একটা ঘটনা বর্নিত আছে। বিখ্যাত মুফাসসির আল্লামা ইমাম জাওজী রহমাতুল্লাহি আলাইহি উনার ঘটনা, তিনি এতবড় মুফাসসির ছিলেন যে, মানুষ উনার ছাত্র হতে পারলে নিজেকে ধন্য মনে করতো। সেই ইবনে জাওজী রহমাতুল্লাহি আলাইহি তিনি একদিন গাউছুল আযম, মুহীউদ্দীন আব্দুল ক্বদীর জীলানি রহমাতুল্লাহি আলাইহি উনার দরবার শরীফে গেলেন উনার সাক্ষাৎ লাভ করার জন্য। সেদিনও গাউছুল আযম রহমাতুল্লাহি আলাইহি উনার মজলিসে প্রাত্যহিক হাফিজ সাহেব কর্তৃক পঠিত পবিত্র আয়াত শরীফ উনার তাফসীর বর্ননা শুরু করলেন। এক এক করে চৌদ্দ প্রকার তাফসীর করে নতুন আগুন্তক ইমাম ইবনে জাওজী রহমাতুল্লাহি আলাইহি উনাকে উদ্দেশ্যে করে বলেছিলেন, এসব তাফসীর কি আপনার জানা আছে ? তিনি উত্তরে বললেন, জ্বী হুজুর ! এগুলা আমার জানা আছে।
তখন হযরত গাউছুল আযম রহমাতুল্লাহি আলাইহি তিনি ঐ একই আয়াত শরীফ উনার চল্লিশ প্রকার তাফসীর করলেন। তারপর বললেন, হে ইবনে জাওজী রহমাতুল্লাহি আলাইহি ! চৌদ্দ প্রকারের পরবর্তী তাফসীর গুলো কি আপনি জানেন?
ইমাম জাওজী রহমাতুল্লাহি আলাইহি বললেন, পরবর্তী তাফসীর আমার জানা নাই, শুধু তাই নয়, এত সুক্ষ্ম থেকে সুক্ষ্মতর তাফসীর হতে পারে তা কখনো চিন্তাও করি নাই। তখন হযরত গাউছুল আযম রহমাতুল্লাহি আলাইহি বললেন, "হে ইবনে জাওজী তুমি সোজা হয়ে বস। আমি কালের থেকে হালের দিকে প্রত্যাবর্তন করলাম।"
এ কথা বলা মাত্র ইবনে জাওজী রহমাতুল্লাহি আলাইহি উনার হাল শুরু হয়ে গেল এবং তিনি লাফাতে লাগলেন।
তখন হযরত গাউছুল আযম রহমাতুল্লাহি আলাইহি তিনি বললেন, হে ইবনে জাওজী ! এটা ইলিম হাসিলের জায়গা লাফানোর জায়গা নয়। তখন ইবনে জাওজী রহমাতুল্লাহি আলাইহি গাউছুল আযম মুহিউদ্দীন আব্দুল কাদীর জিলানী রহমাতুল্লাহি আলাইহি উনার কদম মুবারকে পরে বাইয়াত হয়ে গেলেন।

এবার চিন্তা করুন তাফসীর কি জিনিস !! বর্তমানে মওদূদী দেওবন্দী মার্কা তাফসীর দিয়ে কখনোই কুরআন শরীফ উনার মর্ম বুঝা সম্ভব নয়। তাফসীর বুঝছে রুহানীয়ত হাসিল করতে হবে এবং ইলমে লাদুন্নী অর্জন করতে হবে।

152.ইয়া নবী, ইয়া রসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলে সম্বোধন করার শরয়ী ফায়ছালা:


হযরত হায়ছাম ইবনে হানাশ রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার থেকে “আমালুল ইয়াওমি ওয়াল লাইলাহ” নামক কিতাব উনার ৬৫ পৃষ্ঠায় ১৭২ নম্বর পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে হযরত উমর ইবনুল খত্তাব আলাইহিস সালাম উনার অপর একটি ঘটনা বর্ণনা করেছেন।
পবিত্র হাদীছ শরীফখানা হলো-

عن حضرت عبد الرحمن بن سعد رضى الله تعالى عنه قال كنت عند حضرت عمر عليه السلام فصدرة رجله فقلت يا ابا عبد الرحمن مالربجلك قال اجتمع عصبها من ههنا قلت ادع احب الناس اليك فقال يا محمد صلى الله عليه وسلم فانبسطت.

অর্থ: “হযরত আব্দুর রহমান ইবনে সা’দ রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি একদা হযরত উমর ফারূক্ব আলাইহিস সালাম উনার নিকট ছিলাম। এমনি সময়ে উনার পা মুবারক ঝিনঝিন শুরু করে দিলো। আমি উনাকে জিজ্ঞাসা করলাম, আপনার পা মুবারকে কি হয়েছে? তিনি বললেন, আমার এখানের হাড় একত্রিত হয়ে গেছে। আমি উনাকে বললাম, আপনার সর্বাধিক প্রিয় মানুষকে আহ্বান করুন। তাতে তিনি ‘ইয়া মুহাম্মাদ! ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলে আহবান করলেন। তৎক্ষণাত উনার পা মুবারক ভালো হয়ে গেল।”

তাছাড়াও যুদ্ধের মাঠে হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনাদের পরিচিতির জন্যে সাংকেতিক শব্দ ‘ইয়া মুহাম্মাদাহ’ নির্ধারিত ছিল। যেমন, ইয়ামামার যুদ্ধে হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনাদের পক্ষে সাংকেতিক শব্দ ছিল ‘ইয়া মুহাম্মাদাহ’।"
সুবহানাল্লাহ্ !!

151. নামাযের পর মুনাজাত সম্পর্কে নবী কারীম সল্লাল্লাহু ‘আলাইহী ওয়া সাল্লাম এর আমল

**যারা নামাজের পর মুনাজাত বিদআত বলে তারা দেখুন**
নামাযের পর মুনাজাত সম্পর্কে নবী কারীম সল্লাল্লাহু ‘আলাইহী ওয়া সাল্লাম এর আমল
عن المغیرۃ بن شعبۃ رضي اللہ عنہ کان النبي صلی اللہ علیہ وسلم یدعو في دبر صلاتہ
(التاریخ الکبیر : ۶)
১। হযরত মুগীরা বিন শু’বা (রাঃ) বর্ণনা করেন যে, নবী আলাইহিস সালাম স্বীয় নামাযের শেষে দু’আ করতেন।
(ইমাম বুখারী (রহ) তারীখে কাবীরঃ ৬/৮০)
عن أنس رض کان النبي صلی اللہ علیہ وسلم إذا انصرف من الصلاۃ یقول : اللہم اجعل خیر عمري أخرہ وخیر عملي خاتمہ، وخیر أیامي یوم ألقاک۰
(رواہ الطبراني في الأوسط : ۱/۱۸۷الحدیث ۹۴۱۱)
২। হযরত আনাস (রাঃ) বর্ণনা করেন যে নবী কারীম সল্লাল্লাহু ‘আলাইহী ওয়া সাল্লাম যখন নামায থেকে ফারেগ হতেন তখন এ দু’আ করতেন। হে আল্লাহ! আমার জীবনের মধ্যে সবচেয়ে সুন্দর কর শেষ জীবনকে এবং আমার আমলের মধ্যে সবচেয়ে উত্তম কর শেষ আমলকে এবং আমার দিন সমূহের মধ্যে সবচেয়ে মনোরম কর তোমার সাথে সাক্ষাতের দিনকে।
(তাবারানী আউসাতঃ ১০/১৮৭ হাঃ নং ৯৪১১)
بہن دبر کل صلاۃ۰
(رواہ النساءي : ۱۵۱ الحدیث ۵۴۶۵)
৩। হযরত আবু বকর (রাঃ) বর্ণনা করেন যে, নবী কারীম সল্লাল্লাহু ‘আলাইহী ওয়া সাল্লাম প্রত্যেক নামাযের পর এ দু’আ করতেন, “হে আল্লাহ! আমি তোমার নিকট কুফর, অভাব অনটন এবং দোযখের আযাব থেকে মুক্তি চাই।”
(নাসাঈ শরীফ ঃ ১/১৫১ হাঃ নং ৫৪৬৫)
عن زید بن أرقم سمعت رسول اللہ صلی اللہ علیہ وسلم یدعو في دبر کل صلاۃ اللہم بنا ورب کل شيء۰
(رواہ أبو داود : ۱/۲۱۱ الحدیث ۱۵۰۸)
৪। হযরত যায়েদ বিন আরকাম (রাঃ) বলেন যে, নবী সল্লাল্লাহু ‘আলাইহী ওয়া সাল্লাম কে প্রত্যেক নামাযের পর এ দু’আ করতে শুনতাম, হে আল্লাহ যিনি আমাদের প্রতিপালক এবং প্রত্যেক জিনিসের প্রতিপালক।
(আবু দাউদ ঃ ১/২১১ হাঃ নং ১৫০৮)
حدثنا محمد بن یحي الأسلمي قال : رأیت عبد اللہ بن الزبیر ورأي رجلا رافعا یدیہ یدعو قبل أن یفرغ من صلاتہفلما فرغ منہ۰ قال لہ إن رسول اللہ صلی اللہ علیہ وسلم لم یکن یرفع یدیہ حتی یفرغ من صلاتہ
৫। হযরত মুহাম্মাদ ইবনে ইয়াহইয়া (রহঃ) বলেন, ‘আমি আব্দুল্লাহ বিন যুবাইর (রাঃ) কে দেখেছি যে, তিনি এক ব্যক্তিকে সালাম ফিরানোর পূর্বে হাত তুলে মুনাজাত করতে দেখে তার নামায শেষ হওয়ার পর তাকে ডেকে বললেন, ‘রাসূলে পাক সল্লাল্লাহু ‘আলাইহী ওয়া সাল্লাম কেবল নামায শেষ করার পরই হস্তদ্বয় উত্তোলন করে মুনাজাত করতেন; আগে নয়।’
(ই’লাউস সুনান, ৩/১৬১)
عن السائب بن یزید عن أبیہ أن النبي صلی اللہ علہ وسلم کان إدا دعا فرفع یدیہ مسح وجہہ بیدیہ۰
(رواہ أبو داود : ۱/۲۰۹الحدیث ۱۴۹۲)
৬। হযরত সায়িব বিন য়াযীদ (রাঃ) স্বীয় পিতা থেকে বর্ণনা করেন নবী কারীম সল্লাল্লাহু ‘আলাইহী ওয়া সাল্লাম যখন দু’আ করতেন তখন উভয় হাত উঠাতেন এবং দু’আ শেষে হস্তদ্বয়কে চেহারায় মুছতেন।
(আবু দাউদ শরীফ ১/২০৯ হাঃ নং ১৪৯২)
عن أبي موسی الأشعري أنہ قال : دعا النبي صلی اللہ علیہ وسلم ثم رفع یدیہ ورأیت بیاض إبطیہ۰
(رواہ البخاري : ۲/۹۳۸ الحدیث)
৭। হযরত আবু মূসা আশআরী (রাঃ) বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দু’আর জন্য উভয় হাত উত্তোলন করেন। যদ্দরুন আমি তাঁর বগলের সাদা অংশ দেখতে পাই।
(বুখারী শরীফ ২/৯৩৮ হাঃ নং ৬৩৪১)
عن عمر بن الخطاب کان رسول اللہ صلی اللہ علہ وسلم إذا رفع یدیہ في الدعاء لم یحطہما حتی یمسح بہما وجہہ۰
(رواہ البخاري : ۲/۱۷۶ الحدیث ۶۳۴۱)
৮। হযরত উমর ফারুক (রাঃ) বর্ণনা করেন যে, নবী কারীম সল্লাল্লাহু ‘আলাইহী ওয়া সাল্লাম দু’আর জন্য যখন হাত তুলতেন তখন চেহারায় মুছার পূর্বে হাত নামাতেন না।
(বুখারী শরীফ ২/১৭৬ হাঃ নং ৬৩৪১)
এ সকল হাদীস দ্বারা প্রমাণিত হল যে, নবী কারীম সল্লাল্লাহু ‘আলাইহী ওয়া সাল্লাম প্রত্যেক নামাযের পর মুনাজাত করতেন, চাই ফরজ হোক বা নফল এবং মুনাজাত করার সময় দু’আর আদব হিসাবে উভয় হাত তুলতেন এবং শেষে উভয় হাত চেহারার মধ্যে মুছতেন। আর নবী কারীম সল্লাল্লাহু ‘আলাইহী ওয়া সাল্লাম যখন এরূপ আমল করতেন তাহলে সাহাবাগণও (রাঃ) এ আমল করতেন। কারণ, নবী কারীম সল্লাল্লাহু ‘আলাইহী ওয়া সাল্লাম এর আমল ও নির্দেশ-এর পরে সাহাবাগণ তার বিরুদ্ধাচারণ করতে পারেন না।

150. বিয়ে ছাড়া প্রেম-ভালোবাস করা কি হারাম ?

প্রশ্নঃ বিয়ে ছাড়া প্রেম-ভালোবাস/রিলেশান/এফেয়ার করা কি হারাম ?
উত্তরঃ হ্যা, অবশ্যই এটা হারাম।
১. প্রেম ভালোবাসা হয় – একজন আরেকজনের সাথে সরাসরি/ফোনে/ফেইসবুকে কথা বলে, দেখাসাক্ষাৎ করে। ইসলাম এইধরণের দেখা সাক্ষাত ও কথা বলা, যেখানে কামনা-বাসনা মিশ্রিত থাকে সেটাকে “যিনা” সাব্যস্ত করে হারাম করে দিয়েছে।
যিনা কি?
রাসুলুল্লাহ (সাঃ) বলেছেনঃ
“কোন বেগানা নারীর প্রতি দৃষ্টি দেওয়া চোখের যিনা, অশ্লীল কথাবার্তা বলা জিহ্বার যিনা, অবৈধভাবে কাউকে স্পর্শ করা হাতের যিনা, ব্যাভিচারের উদ্দেশ্যে হেঁটে যাওয়া পায়ের যিনা, খারাপ কথা শোনা কানের যিনা আর যিনার কল্পণা করা ও আকাংখা করা মনের যিনা। অতঃপর লজ্জাস্থান একে পূর্ণতা দেয় অথবা অসম্পূর্ণ রেখে দেয়”। [আল-বুখারী, সহীহ আল-মুসলিম, সুনানে আবু দাউদ, সুনানে আন-নাসায়ী।]
সমস্ত প্রকার যিনা হারামঃ
আল্লাহ তাআ’লা যিনাকে হারাম ঘোষণা করে বলেনঃ
“তোমরা যিনার কাছেও যাবে না। কেননা তা অত্যন্ত নির্লজ্জ এবং খারাপ কাজ”।
[সূরা বনী ইসরাঈলঃ ৩২]
রসূলুল্লাহ্ (সাঃ) বলেছেনঃ
“কোন পুরুষ যখন একজন মহিলার সাথে নির্জনে মিলিত হয়, তখন তাদের তৃতীয় সঙ্গী হয় শয়তান।”
[তিরমিযী, মিশকাত]
২. বেগানা নারীকে স্পর্শ করা কতো বড়ো পাপ!!
“নিশ্চয়ই তোমাদের কারো মাথায় লোহার পেরেক ঠুকে দেয়া ঐ মহিলাকে স্পর্শ করা থেকে অনেক ভাল, যে তার জন্য হালাল নয়।” [তাবারানী, ছহীহুল জামে হাদীস -৪৯২১]
৩. আর এইরকম সম্পর্কের একটা পর্যায়ে (আগে হোক বা পরে) নারী পুরুষে যিনা-ব্যভিচারে জড়িয়ে পড়ে।
অবিবাহিত জেনাকারী ও জেনাকারিনীদের দুনিয়াবী শাস্তিঃ
“ব্যভিচারিণী নারী ব্যভিচারী পুরুষ; তাদের প্রত্যেককে একশ করে বেত্রাঘাত কর। আল্লাহর বিধান কার্যকর কারণে তাদের প্রতি যেন তোমাদের মনে দয়ার উদ্রেক না হয়, যদি তোমরা আল্লাহর প্রতি ও পরকালের প্রতি বিশ্বাসী হয়ে থাক। মুসলমানদের একটি দল যেন তাদের শাস্তি প্রত্যক্ষ করে”। [সুরা আন-নূর, আয়াত -২]
দুনিয়ার জীবনে বিবাহিত জেনাকারীদের চেয়ে অবিবাহিত জেনাকারীদের শাস্তি কম করা হয়েছে। কিন্তু তোওবা করে ফিরে না আসলে পরকালে দুই দলের জন্যই রয়েছে কঠোর শাস্তি। তাদের উলংগ করে বড় একটা কড়াইয়ে পুড়ানো হবে। কিছুক্ষণ পরপর সেই আগুনের মাত্রা বাড়িয়ে দেওয়া হবে, আর জেনাকারীরা ছিটকে বের হয়ে আসতে চাইবে আগুন থেকে। কিন্তু তারা পালিয়ে যেতে পারবেনা, আবার তাদেরকে আগুনের মধ্যখানে নিয়ে আবার পুড়ানো হবে। জেনাকারী নারীর লজ্জাস্থানের দূর্গন্ধে পুরো জাহান্নামবাসীর জীবন অতিষ্ট হয়ে যাবে। সেটা তাদের জন্য অতিরিক্ত আরেকটা শাস্তি হবে।(নাউযুবিল্লাহ) জেনাকারী ও জেনাকারীদের তওবা করাই উচিত।
অবিবাহিত জেনাকারী ও জেনাকারিনীদের দুনিয়াবী শাস্তিঃ
বিবাহিত নারী বা পুরুষ যদি জিনার অপরাধে জড়িয়ে পড়ে, আর তা ইসলামী বিচারালয়ে প্রমানিত হয় অথবা সে চারবার নিজে থেকেই স্বীকারোক্তি দেয় (শাস্তি মাথে পেতে নেওয়ার জন্য) – (২টার যেকোনো একটা হলেই শাস্তি প্রযোজ্য হবে) তাহলে তার শাস্তি হচ্ছে তাকে “রজম” বা পাথর ছুঁড়ে হত্যা করা হবেঃ
জাবির বিন আব্দুল্লাহ আল আনসারি (রাঃ) হতে বর্ণিত:
বনি আসলাম গোত্রের এক লোক রাসূলুল্লাহ (সাঃ) এর কাছে এসে জানালো যে সে জিনা করেছে এবং নিজের বিরূদ্ধে চার বার সাক্ষ্য দিল। রাসূলুল্লাহ (সাঃ) তাকে “রজম” বা প্রস্তরাঘাতে মৃত্যুর নির্দেশ দিলেন, কারণ সে বিবাহিত ছিল। [বুখারি ভলিউম ৮, বুক ৮২, নম্বর ৮০৫]
রজম প্রয়োগের এই ঘটনাটি বুখারির ৮টা, মুসলিমের ৯টা, আবু দাউদের ৪টা, মুয়াত্তা ইমাম মালিকের ২ টা সহ মোট ২৩ টা সহীহ হাদিসে বর্ণিত হয়েছে।
বিঃদ্রঃ জেনাকারী নারী বা পুরুষের এমন ধারণা পোষণ করা মোটেই ঠিকনা, আমাদের দেশে এই নিয়ম নাই – তাই আপাতত কিছু আনন্দ করে নেয়া যাক।
দুনিয়াতে শাস্তি না হলে পরকালের শাস্তি আরো ভয়ংকর। জাহান্নামের আগুনের কড়াইয়ে পুড়া কি ভয়ংকর হতে পারে? ৫ মিনিট চুলার আগুনে ছোট্ট একটা আঙ্গুল দিয়েই দেখতে পারেন সহ্য করতে পারেন কিনা?
কি কঠিন অবস্থা হবে আগুনের কড়াইয়ে যখন উলংগ করে পুড়ানো হবে যার আগুন দুনিয়ার আগুনের ৭০ গুণ আর যেই আগুন কখনো কমবেনা, না শাস্তি কমানো হবে! (নাউযুবিল্লাহি মিন যালিক)
যিনাকারীদের পরকালীন শাস্তিঃ
রাসুল (সাঃ) বলেছেনঃ “আমি স্বপ্নে একটি চুলা দেখতে পেলাম যার উপরের অংশ ছিল চাপা আর নিচের অংশ ছিল প্রশস্ত আর সেখানে আগুন উত্তপ্ত হচ্ছিল, ভিতরে নারী পুরুষরা চিল্লাচিল্লি করছিল। আগুনের শিখা উপরে আসলে তারা উপরে উঠছে, আবার আগুন স্তিমিত হলে তারা নিচে যাচ্ছিল, সর্বদা তাদের এ অবস্থা চলছিল, আমি জিবরীল আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে জিজ্ঞেস করলামঃ এরা কারা? জিবরীল আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললঃ তারা হল, অবৈধ যৌনচারকারী নারী ও পুরুষ।
সহীহ আল-বুখারী।
কথিত প্রেমিক আর প্রেমিকাদের একে অন্যের সাথে সমস্ত সম্পর্ক ছিন্ন করা উচিত। পরকালে ভালোবাসা নামক শোয়তানী ধোঁকা থাকবেনা – শুধুই আগুন। আল্লাহর কসম! তখন এই প্রেমিক প্রেমিকারা একজন আরেকজনের শত্রু হয়ে যায়। আর দুনিয়ার জীবনে একজন আরেকজনকে জেনা ব্যভিচারে বন্ধু হিসাবে নেওয়ার জন্য হাত কামড়িয়ে আফসোস করবে।
“জালেম সেদিন আপন হস্তদ্বয় দংশন করতে করতে বলবে, হায় আফসোস! আমি যদি রসূলের পথ অবলম্বন করতাম। হায় আমার দূর্ভাগ্য! আমি যদি অমুককে বন্ধু হিসেবে না নিতাম। আমার কাছে উপদেশ আসার পর সে আমাকে তা থেকে পথভ্রষ্ট করেছিল”।
সুরা আল-ফুরকান, আয়াত ২৭-২৯।
আল্লাহ আমাদের ও আমাদের পরিবারকে নিরাপদ রাখুন – আমিন।